

সুদের বড় ধাক্কা সামনে: আরও হার বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত থাকতে অস্ট্রেলিয়ানদের সতর্ক করল IMF। অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয়ে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগের খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফ। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, অব্যাহত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়াকে আরও এক বা একাধিকবার সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।
আইএমএফ আশা করছে, অস্ট্রেলিয়ার মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে রিজার্ভ ব্যাংকের নির্ধারিত ২ থেকে ৩ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় ফিরে আসবে। তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং অনিশ্চিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে।
এই চাপ অব্যাহত থাকলে আরবিএ আবার নগদ সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে। এতে মর্টগেজধারী, ভাড়াটিয়া, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং ঋণনির্ভর পরিবারগুলো নতুন আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।
সুদ বৃদ্ধির আশঙ্কা ৮৭ শতাংশ
আর্থিক বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরবিএর পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানোর আশঙ্কা প্রায় ৮৭ শতাংশ।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি নগদ সুদের হার ৪.৩৫ শতাংশ। কিছু অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এই হার ৪.৮৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
দেশের কয়েকটি বড় ব্যাংক ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদের কিছু হোম লোনের সুদের হার বাড়াতে শুরু করেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাংকগুলোও দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মর্টগেজে মাসে আরও প্রায় ১০০ ডলার
আরবিএ নগদ সুদের হার ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ালে এবং ব্যাংকগুলো সেটি গ্রাহকদের ওপর সম্পূর্ণভাবে চাপিয়ে দিলে, ছয় লাখ ডলারের একটি পরিবর্তনশীল সুদের মর্টগেজে মাসিক কিস্তি আনুমানিক আরও ১০০ ডলার বাড়তে পারে।
তবে প্রকৃত বৃদ্ধির পরিমাণ ঋণের বর্তমান সুদের হার, অবশিষ্ট মেয়াদ এবং ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
অস্ট্রেলিয়ার অনেক পরিবার ইতোমধ্যে খাবার, বিদ্যুৎ, গ্যাস, বীমা, জ্বালানি ও বাড়িভাড়ার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। নতুন করে সুদ বাড়লে তাঁদের পারিবারিক বাজেটের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হবে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে নতুন মূল্যস্ফীতির ভয়
সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির তথ্যে পেট্রোল ও জ্বালানির দাম বড় ভূমিকা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি শুধু গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ায় না। এটি পরিবহন, কৃষি, উৎপাদন এবং খাদ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনীতির প্রায় সব খাতে মূল্যস্ফীতি ছড়িয়ে দিতে পারে।
দীর্ঘ সময় এই অবস্থা চললে শ্রমিকেরা উচ্চ বেতন দাবি করতে পারেন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাড়তি ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সরকারি ব্যয় কমানোর আহ্বান
আইএমএফ ফেডারেল ও রাজ্য সরকারগুলোকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির গতি কমানো গেলে মূল্যস্ফীতির চাপ হ্রাস পাবে এবং অর্থনীতি ঠান্ডা করার পুরো দায়িত্ব শুধু রিজার্ভ ব্যাংকের ওপর থাকবে না।
আইএমএফ অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে। সংস্থাটি ২০২৬ সালে ১.৯ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।
উৎপাদনশীলতার দুর্বলতাকে ভবিষ্যৎ জীবনমানের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন আবাসন কর্মসূচি সত্ত্বেও বাড়ির ক্রয়ক্ষমতায় এখনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলেও আইএমএফ জানিয়েছে।
শুধু বাড়ির মালিক নয়, ভাড়াটিয়ারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন
সুদের হার বাড়লে ক্ষতি শুধু মর্টগেজধারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাড়ির মালিকেরা বাড়তি ঋণ পরিশোধের খরচ ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন।
ব্যবসায়িক ঋণের খরচ বাড়লে প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ ও নিয়োগ কমাতে পারে। ক্রেডিট কার্ড, ব্যক্তিগত ঋণ কিংবা ব্যবসায়িক ঋণ থাকা গ্রাহকদেরও বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার সুদের হার নির্ধারণ করে স্বাধীন রিজার্ভ ব্যাংক—আইএমএফ নয়। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, মজুরি, ভোক্তা ব্যয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করেই আরবিএ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
তারপরও আইএমএফের সতর্কবার্তা অস্ট্রেলিয়ার লাখ লাখ পরিবারের জন্য একটি কঠিন বার্তা দিচ্ছে—ঋণের উচ্চ ব্যয় থেকে প্রত্যাশিত স্বস্তি হয়তো এখনো অনেক দূরে।














































আপনার মতামত লিখুন :