

অস্ট্রেলিয়ার National Disability Insurance Scheme—NDIS পরিচালনাকারী সংস্থা National Disability Insurance Agency—NDIA কর্মী কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৩ সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রথম যোগ্য Australian Public Service কর্মীদের কাছ থেকে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন চাওয়া হচ্ছে।
NDIA-এর প্রধান নির্বাহী গ্রায়েম হেড কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে দলীয় তথ্য অধিবেশনের মাধ্যমে কর্মীদের স্বেচ্ছা অবসরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
NDIA কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্থাটির বর্তমান কর্মীব্যয় সরকারের বরাদ্দ করা বাজেটের তুলনায় বেশি। কর্মীসংখ্যা ও ব্যয়কে নির্ধারিত সীমার মধ্যে আনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও অগ্রাধিকারমূলক কাজে সম্পদ ব্যবহারের জন্য স্বেচ্ছা অবসরের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
ফেডারেল বাজেটের নথি অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে NDIA-এর গড় কর্মীসংখ্যা ছিল ১০,৫০৯ জন। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তা ৯,৮৪০ জনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ গড় কর্মীসংখ্যা প্রায় ৬৬৯টি পদ কমতে পারে।
তবে স্বেচ্ছা অবসরের মাধ্যমে ঠিক কতজন কর্মী বিদায় নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
কর্মী কমানোর সিদ্ধান্তের পর NDIS অংশগ্রহণকারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের মধ্যে সেবার মান ও অপেক্ষার সময় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
NDIA কর্মীরা অংশগ্রহণকারীদের আবেদন, পরিকল্পনা অনুমোদন, অর্থায়ন পর্যালোচনা, অভিযোগ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরিচালনা করেন। কর্মীসংখ্যা কমে গেলে এসব কাজ সম্পন্ন করতে আরও সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে NDIS-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও পর্যালোচনার চাপ আগে থেকেই উল্লেখযোগ্য। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে Administrative Review Tribunal-এ যাওয়া NDIS মামলার ৬৪ শতাংশে সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ কর্মী হারালে প্রশাসনিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
NDIA বলেছে, স্বেচ্ছা অবসর হবে কর্মীব্যবস্থাপনার একটি পদ্ধতি। কোন আবেদন গ্রহণ করা হবে, সে সিদ্ধান্তের সময় সংস্থার সক্ষমতা, অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম, অংশগ্রহণকারীদের সেবা এবং চলমান সংস্কার বিবেচনা করা হবে।
সংস্থাটির দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অপেক্ষার সময় কমানো এবং সিদ্ধান্তের মান উন্নত করতে সম্মুখসারির কর্মীবাহিনী শক্তিশালী করা হয়েছে। কর্মী কমানোর মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ সেবা সচল রাখার চেষ্টা করা হবে।
NDIS-এর ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকার বড় ধরনের সংস্কার করছে। কিন্তু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এটি সাধারণ কোনো সরকারি প্রকল্প নয়—অনেক মানুষের দৈনন্দিন জীবন, চিকিৎসা, থেরাপি, ব্যক্তিগত সহায়তা এবং স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ এর সঙ্গে জড়িত।
তাই শুধু বাজেটের হিসাব মেলাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মী কমানো হলে সেবা বিলম্বিত হওয়া কিংবা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সরকারের সামনে এখন বড় পরীক্ষা—ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি NDIS অংশগ্রহণকারীদের সময়মতো ন্যায়সংগত ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করা।












































আপনার মতামত লিখুন :