

মার্কিন নৌবাহিনী তাদের বিমানবাহী রণতরীভিত্তিক F/A-18E/F Super Hornet যুদ্ধবিমানে নতুন প্রজন্মের ‘Blackbeard’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন ও পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করেছে। শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি বেগে ছুটতে সক্ষম এই অস্ত্রকে ভবিষ্যতের নৌযুদ্ধের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Castelion ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করছে। F/A-18 যুদ্ধবিমানের সঙ্গে Blackbeard-এর হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সংযুক্তকরণ, ফ্লাইট টেস্ট এবং নিরাপত্তা ও উড্ডয়নযোগ্যতার প্রয়োজনীয় সনদ সম্পন্ন করতে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব পরীক্ষা সফল হলে ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালিত Super Hornet-এর অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হওয়ার পথ খুলবে।
কেন Blackbeard গুরুত্বপূর্ণ?
হাইপারসনিক অস্ত্র সাধারণত ঘণ্টায় প্রায় ৬,১০০ কিলোমিটারের বেশি বা Mach 5-এরও অধিক গতিতে চলতে পারে। প্রচণ্ড গতি ও গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতার কারণে প্রচলিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এ ধরনের অস্ত্র শনাক্ত এবং প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।
Blackbeard-কে তুলনামূলক কম খরচে ব্যাপকভাবে উৎপাদনযোগ্য করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। এটি দূরবর্তী, সময়-সংবেদনশীল এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষাবেষ্টিত লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত আঘাত হানতে সক্ষম হবে বলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দাবি।
বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থলভিত্তিক উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। F/A-18 Super Hornet বিমানবাহী রণতরী থেকে উড্ডয়ন করে সমুদ্রের গভীর এলাকা থেকে Blackbeard নিক্ষেপ করতে পারবে। এতে মার্কিন নৌবাহিনীর আঘাতের পরিসর বাড়বে এবং যুদ্ধবিমানকে শত্রুর শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষার বাইরে থেকে হামলা চালানোর সুযোগ দিতে পারে।
পরীক্ষা মানেই এখনই যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন নয়
তবে Blackbeard এখনো F/A-18-এর নিয়মিত কার্যকর অস্ত্র হিসেবে পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পায়নি। বর্তমানে কর্মসূচিটি বিমানটির সঙ্গে অস্ত্র সংযোজন, বহনযোগ্যতা, সফটওয়্যার সমন্বয়, নিরাপদ বিচ্ছিন্নকরণ, ফ্লাইট পরীক্ষা এবং সামরিক ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
পরবর্তী অগ্রগতি হিসেবে Castelion জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী ৫০টি প্রাক্-উৎপাদন Blackbeard প্রোটোটাইপ ও সংশ্লিষ্ট সংরক্ষণ–পরিবহন কনটেইনার সরবরাহের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ২৩.৪ মিলিয়ন ডলারের একটি অর্ডার দিয়েছে। এরপর অস্ত্রটিকে প্রাথমিক কার্যকর সক্ষমতার পর্যায়ে নিতে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি কাজও দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইন্দো-প্যাসিফিকে বদলে যেতে পারে শক্তির হিসাব
যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময়ে প্রকল্পটি এগিয়ে নিচ্ছে, যখন চীন ও রাশিয়া দ্রুত হাইপারসনিক অস্ত্রের উন্নয়ন ও মোতায়েন করছে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরীকে ঘিরে সামরিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
Blackbeard সফলভাবে Super Hornet-এ যুক্ত হলে মার্কিন নৌবাহিনী বিদ্যমান বিমান ও বিমানবাহী রণতরী ব্যবহার করেই অত্যন্ত দ্রুতগতির দূরপাল্লার আঘাত হানার নতুন সক্ষমতা অর্জন করবে। তবে পরীক্ষার ফলাফল, নিরাপত্তা অনুমোদন, উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যকারিতাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে—‘Blackbeard’ সত্যিই আধুনিক নৌযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারবে কি না।












































আপনার মতামত লিখুন :