

AusBangla News Desk: অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় ও ঋণের কিস্তির চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আবারও বাড়তে থাকায় রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া—RBA—আরও এক দফা সুদের হার বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
RBA গভর্নর মিশেল বুলক জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানির উচ্চমূল্য, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরে চাহিদার চাপ মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের আগে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেননি।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার নগদ সুদের হার ৪.৩৫ শতাংশ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে RBA মোট ৭৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়িয়েছে। এরপরও অন্তর্নিহিত বা ‘কোর’ মূল্যস্ফীতি ৩.৬ শতাংশে রয়েছে, যা ব্যাংকটির ২ থেকে ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে।
বাজারে আরেক দফা বৃদ্ধির জোরালো আশঙ্কা
আর্থিক বাজারে আগামী বৈঠকে নগদ সুদের হার ৪.৬০ শতাংশে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে আরেক দফা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৯৫ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে RBA মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, মজুরি, জ্বালানির দাম ও ভোক্তা ব্যয়ের সর্বশেষ তথ্য মূল্যায়ন করবে।
RBA সহকারী গভর্নর সারাহ হান্টারও ইঙ্গিত দিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আরও কঠোর মুদ্রানীতির প্রয়োজন হতে পারে।
পরিবারগুলোর ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
সুদের হার আবার বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন পরিবর্তনশীল সুদের হারে গৃহঋণ নেওয়া পরিবারগুলো। ব্যাংকগুলো RBA-এর সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের ওপর পুরোপুরি চাপিয়ে দিলে মাসিক মর্টগেজ কিস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে।
এর প্রভাব শুধু বাড়ির মালিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিনিয়োগকারী বাড়ির মালিকদের ঋণব্যয় বাড়লে ভাড়াটিয়াদের ওপরও অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি গাড়ি, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণের সুদ বাড়লে পরিবারের ব্যয়যোগ্য আয় আরও কমে যাবে।
এরই মধ্যে খাদ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বীমা, চিকিৎসা ও আবাসন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বহু পরিবার দৈনন্দিন খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। নতুন করে সুদের হার বাড়লে খুচরা ব্যবসা, নির্মাণ ও আবাসন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কঠিন ভারসাম্যের মুখে RBA
RBA-এর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা। সুদের হার বাড়ালে বাজারে চাহিদা কমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে; কিন্তু একই সঙ্গে পরিবারের ব্যয়, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং নতুন কর্মসংস্থানও কমে যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার বেকারত্বের হার বর্তমানে ৪.৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শ্রমবাজার কিছুটা দুর্বল হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও RBA গভর্নর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের সিদ্ধান্ত তাই শুধু বাড়ির মালিকদের জন্য নয়—ভাড়াটিয়া, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ভোক্তাসহ প্রায় সব অস্ট্রেলীয় পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন সবার নজর RBA-এর দিকে—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবারও কি বাড়বে সুদের হার, নাকি পরিবারগুলোকে সাময়িক স্বস্তি দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক?














































আপনার মতামত লিখুন :