

সৌদি আরবের মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ড্রোনটি পবিত্র নগরীর সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়।
সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, মক্কা এবং এর পবিত্র স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য একটি ‘রেড লাইন’। এ ধরনের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
তবে হুতিরা মক্কা কিংবা কোনো ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, তাদের সাম্প্রতিক অভিযান সৌদি ভূখণ্ডের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসলমান হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান। ফলে নগরীটির আশপাশে ড্রোন শনাক্ত হওয়ার খবরে সৌদি আরবসহ পুরো মুসলিম বিশ্বে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি। পবিত্র স্থাপনা কিংবা বেসামরিক এলাকায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।
সৌদি জোটের দাবি, এটি মক্কাকে ঘিরে হুতিদের দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য হুমকির ঘটনা। ২০১৭ সালে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ করেছিল সৌদি আরব। সে সময়ও হুতিরা পবিত্র নগরীকে লক্ষ্য করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
সর্বশেষ ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সৌদি আরব ও ইয়েমেন সীমান্তসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সৌদি ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি তাদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি পরিবহনের জন্য বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার কারণে সৌদি আরব বিকল্প পথে তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। কিন্তু লোহিত সাগর ও সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চলতে থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এবং মূল্য—উভয়ের ওপরই প্রভাব পড়তে পারে।
আঞ্চলিক সংঘাত মক্কার মতো ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জোরালো হচ্ছে। কোনো পবিত্র স্থান বা বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে ঝুঁকিতে ফেলা হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমা ছাড়িয়ে পুরো মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সর্বশেষ ড্রোন ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, ইয়েমেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাত এখন শুধু সীমান্তকেন্দ্রিক নয়; এটি ধর্মীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্যও গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে।












































আপনার মতামত লিখুন :