অস্ট্রেলিয়ায় নতুন বাড়ি বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, আবাসন খাতে নতুন সংকটের আশঙ্কা


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন বাড়ি বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, আবাসন খাতে নতুন সংকটের আশঙ্কা

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন বাড়ি বিক্রির হার নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। Housing Industry Association—HIA-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে দেশজুড়ে নতুন বাড়ি বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান সুদের চাপ, করনীতির পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট পর্যন্ত টানা চার মাস নতুন বাড়ির বিক্রি কমেছে। মূল ভূখণ্ডের সব রাজ্যেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ভিক্টোরিয়ায়—সেখানে বিক্রি কমেছে প্রায় ২৭ শতাংশ

সুদের চাপে ক্রেতাদের পিছু হটা

বাড়ির ঋণের উচ্চ কিস্তি এবং ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ার আশঙ্কায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা নতুন বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের ঋণ নেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়েছে।

HIA-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ টিম রিয়ার্ডন সতর্ক করেছেন, সুদের হার আরও বাড়ানো হলে নতুন বাড়ির বাজারে মন্দা আরও গভীর হতে পারে। এর প্রভাব ২০২৭ সালে আবাসন নির্মাণ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

জাতীয় আবাসন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা

অস্ট্রেলিয়ার National Housing Accord-এর অধীনে নির্ধারিত নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা থেকে দেশ ইতোমধ্যে পিছিয়ে রয়েছে। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রয়োজনের তুলনায় নতুন বাড়ির অনুমোদনে প্রায় ৮৭ হাজারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

একদিকে নতুন বাড়ির বিক্রি ও নির্মাণ কমছে, অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের সরবরাহসংকটের কারণে আবাসনের চাহিদা এখনো বেশি। ফলে বিক্রি কমলেও সাধারণ ক্রেতা ও ভাড়াটিয়াদের জন্য বাড়ি আরও সাশ্রয়ী হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

নির্মাণশিল্প ও কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব

নতুন বাড়ির বিক্রি কমতে থাকলে ভবিষ্যতে নির্মাণ প্রকল্পের সংখ্যাও হ্রাস পেতে পারে। এতে নির্মাণশ্রমিক, ঠিকাদার, প্রকৌশলী, সরবরাহকারী এবং ছোট ব্যবসার কর্মসংস্থান ও আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে উপকরণের মূল্য, শ্রমিকের মজুরি, বিমা এবং অর্থায়ন ব্যয় বৃদ্ধির চাপ মোকাবিলা করছে। দুর্বল বিক্রির কারণে আরও প্রতিষ্ঠান আর্থিক সমস্যায় পড়তে পারে।

সরকারের দাবি—অনুমোদনের গতি বাড়ছে

ফেডারেল আবাসনমন্ত্রী ক্লেয়ার ও’নিল সরকারের আবাসন উদ্যোগের পক্ষে বলেছেন, বার্ষিক হিসাবে নতুন বাড়ির অনুমোদনের গতি বেড়েছে। বাজেটে অতিরিক্ত ৩০ হাজার বাড়ি নির্মাণের প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

তবে শিল্পসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, শুধু অর্থ বরাদ্দ বা লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা যথেষ্ট নয়। জমি ছাড়, পরিকল্পনা অনুমোদন, অবকাঠামো নির্মাণ, দক্ষ কর্মীর ঘাটতি এবং নির্মাণ ব্যয়—সব সমস্যার সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।

নতুন বাড়ির বিক্রিতে প্রায় ২০ শতাংশ পতন অস্ট্রেলিয়ার আবাসনসংকটের নতুন সতর্কসংকেত। বিক্রি ও নির্মাণ আরও কমে গেলে বাড়ির সরবরাহ বাড়ানোর সরকারি পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে ক্রেতা ও ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: