

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবার, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তি ও ‘ভিসা বদলে’ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকারীরা কঠোর নিয়ন্ত্রণের মুখে; অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজির লেবার সরকার। নতুন আইন পাসের জন্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভর না করে মন্ত্রীর প্রবিধান ও প্রশাসনিক নির্দেশনার মাধ্যমে পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে সরকারের বহুল আলোচিত অভিবাসন সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকারী ব্যক্তি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা পরিবারের সদস্য এবং বারবার ভিসার ধরন পরিবর্তন করে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানো অস্থায়ী অভিবাসীদের লক্ষ্য করা হবে।
৭৭ হাজারের বেশি অবৈধ অবস্থানকারীকে খুঁজবে বর্ডার ফোর্স
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭৭ হাজার ৭০০ জন অননুমোদিত অ-নাগরিক অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে কমিউনিটিতে অবস্থান করছেন।
নতুন পরিকল্পনার অধীনে অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্সের মাঠপর্যায়ের অভিযান বাড়ানো হতে পারে। ভিসার শর্ত ভঙ্গকারী ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসায় অবস্থানকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত দেশত্যাগে বাধ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ সীমিত হতে পারে
গত বছর অস্ট্রেলিয়া তিন লাখ ৩৭ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়েছিল মূল আবেদনকারীদের স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা অন্যান্য নির্ভরশীল সদস্যকে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে একাই অস্ট্রেলিয়ায় আসতে হতে পারে। পরিবার বা নির্ভরশীল সদস্য আনার সুযোগ নির্দিষ্ট কোর্স, যোগ্যতা কিংবা জাতীয় প্রয়োজনের ভিত্তিতে সীমিত করা হতে পারে।
একই সঙ্গে এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় গিয়ে দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করার সুযোগও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়া সীমিত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত দেশত্যাগ নিশ্চিত করার উদ্যোগও পরিকল্পনায় রয়েছে।
অভিবাসন নামিয়ে আনার লক্ষ্য
লেবার সরকার নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন বা নিট বৈদেশিক অভিবাসন বর্তমান প্রায় তিন লাখ পাঁচ হাজার থেকে চলতি বছরে দুই লাখ ৪৫ হাজারে নামিয়ে আনতে চায়। পরবর্তী দুই বছরে এটি বছরে প্রায় দুই লাখ ২৫ হাজারে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্ক পরিচর্যা, নির্মাণ, কৃষি ও পর্যটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী সরবরাহ অব্যাহত রেখেই অভিবাসনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
পুরোপুরি সংসদের বাইরে নয়
তবে “সংসদকে পাশ কাটিয়ে” প্রবিধান কার্যকরের বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা রয়েছে। মন্ত্রীর প্রবিধান নতুন বিলের মতো সংসদের উভয় কক্ষে অনুমোদনের প্রয়োজন ছাড়াই কার্যকর হতে পারে। কিন্তু এগুলো ‘ডিসঅ্যালাওয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট’—অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদের যেকোনো কক্ষ ভোটের মাধ্যমে বাতিল করতে পারে।
ফলে লেবার দ্রুত কড়াকড়ি কার্যকর করতে পারলেও সিনেটে কোয়ালিশন, গ্রিনস ও স্বতন্ত্র সদস্যরা একত্রিত হলে সরকারের প্রবিধান বাতিল হয়ে যেতে পারে।
ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সতর্ক করেছে, অপরিকল্পিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ শ্রমিকসংকট বাড়াতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের আয় কমাতে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অস্ট্রেলিয়ার আকর্ষণ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অন্যদিকে, আবাসনসংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জনসেবার ওপর চাপের কারণে অভিবাসনের সংখ্যা কমানোর দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ফলে লেবারের এই পরিকল্পনা এখন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কে পরিণত হতে যাচ্ছে।














































আপনার মতামত লিখুন :