অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নীতিতে বড় কড়াকড়ি: শিক্ষার্থীর পরিবার আনা সীমিত, ভিজিট ভিসায় বন্ধ হবে ‘ভিসা হপিং’


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ন
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নীতিতে বড় কড়াকড়ি: শিক্ষার্থীর পরিবার আনা সীমিত, ভিজিট ভিসায় বন্ধ হবে ‘ভিসা হপিং’

অভিবাসীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করতে শিক্ষার্থী, পর্যটক, ব্যাকপ্যাকার ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারীদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থায় অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাদের স্বামী–স্ত্রী, পার্টনার কিংবা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসতে পারবেন না। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নির্দিষ্ট কিছু দেশের শিক্ষার্থীর জন্য সীমিত ব্যতিক্রম রাখা হতে পারে। তবে বিস্তারিত দেশের তালিকা ও কার্যকর হওয়ার তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ঘোষিত ব্যতিক্রমের আওতায় না পড়লে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অধিকাংশকেই একা অস্ট্রেলিয়ায় আসতে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত আইন, নির্দেশনা ও দেশের তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বামী–স্ত্রী বা পার্টনার সেকেন্ডারি আবেদনকারী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় এসে নির্দিষ্ট শর্তে কাজ করতে পারেন। নতুন নীতি কার্যকর হলে এই সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হতে পারে।

একই স্তরের কোর্সে বারবার ভর্তি হয়ে থাকা যাবে না

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কথিত ‘ভিসা হপিং’ বন্ধ করতেও কঠোর হচ্ছে সরকার। নতুন নিয়মে অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে স্টুডেন্ট ভিসা নবায়ন করতে হলে সাধারণত আগের চেয়ে উচ্চতর যোগ্যতার কোর্সে ভর্তি হতে হবে।

অর্থাৎ, নিম্নমানের বা একই স্তরের একাধিক কোর্সে বারবার ভর্তি হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করার সুযোগ সীমিত করা হবে।

সব ভিজিটর ভিসায় ‘No Further Stay’ শর্তের পরিকল্পনা

সরকার সব ভিজিটর ভিসায় “No Further Stay” শর্ত যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। এই শর্ত কার্যকর হলে পর্যটক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় এসে দেশটির ভেতর থেকে পার্টনার ভিসা কিংবা অন্য কোনো ভিসার আবেদন করে ব্রিজিং ভিসায় দীর্ঘদিন অবস্থান করা অনেক কঠিন হবে।

ব্যাকপ্যাকারদের জন্য ব্যালট

দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরের Working Holiday ভিসার ক্ষেত্রে ব্যালট বা লটারিভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হবে। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আঞ্চলিক এলাকায় নির্ধারিত কাজ করার শর্তও থাকবে।

অস্ট্রেলিয়া–যুক্তরাজ্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তির কারণে ব্রিটিশ নাগরিকেরা নির্দিষ্ট ক্যাপ ও আঞ্চলিক কাজের বাধ্যবাধকতা থেকে আপাতত অব্যাহতি পাবেন।

অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান

বৈধ ভিসা ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকারীদের শনাক্ত ও অপসারণে আরও ১০০ জন কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মেলবোর্নের একটি সাবেক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।

দক্ষ অভিবাসীদের জন্য অগ্রাধিকার

কড়াকড়ির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, প্রতিরক্ষা, কৃষি, মৎস্য ও সম্পদ খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের ভিসা আবেদন অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা থাকবে।

সরকারের লক্ষ্য, চলতি অর্থবছরে নেট বিদেশি অভিবাসন প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজারে এবং ২০২৭–২৮ অর্থবছরে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে নেট বিদেশি অভিবাসন ছিল প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার।

গুরুত্বপূর্ণ: ঘোষিত পরিবর্তনগুলোর বিস্তারিত বিধিমালা, কার্যকর হওয়ার তারিখ, ট্রানজিশনাল ব্যবস্থা এবং বর্তমানে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ওপর প্রভাব এখনো সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়নি। ভিসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার Department of Home Affairs⁠–এর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: