নেপাল–তিব্বতে অস্ট্রেলিয়ানের সংখ্যা বেড়ে ৪১, সহায়তায় প্রস্তুত NSW


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৯, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন
নেপাল–তিব্বতে অস্ট্রেলিয়ানের সংখ্যা বেড়ে ৪১, সহায়তায় প্রস্তুত NSW

নেপাল–তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ অস্ট্রেলীয় নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার সকালে এই সংখ্যা ছিল ৩৯। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তর (DFAT) নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।

বুধবার হিমালয় অঞ্চলে আঘাত হানা এই ভয়াবহ দুর্যোগে নেপালে অন্তত ৫৭৯ জন এবং তিব্বতে আরও কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় ২,৫০০ মানুষ নিখোঁজ, যাদের মধ্যে বহু বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহের একটি বিশাল অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও পানি নিচের দিকে নেমে আসার পর এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। এতে পাহাড়ি জনপদ, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম এলাকা এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়ার জরুরি সহায়তা

অস্ট্রেলিয়ান সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য ৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মানবিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কনস্যুলার ও সংকট মোকাবিলা কর্মকর্তাদের নেপালে পাঠানো হচ্ছে। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, দুর্যোগের ব্যাপকতা এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।

শনিবার আরও চারজন DFAT Crisis Response কর্মকর্তা ও চার সদস্যের Rapid Response Team কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে থেকেই প্রায় ২০ জন অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তা সেখানে কাজ করছেন।

তীর্থযাত্রীদের মধ্যে বহু অস্ট্রেলিয়ান

নিখোঁজ অস্ট্রেলিয়ানদের অনেকেই মাউন্ট কৈলাশসহ হিমালয়ের বিভিন্ন ধর্মীয় তীর্থস্থানে যাওয়া পৃথক ট্যুর ও তীর্থযাত্রী দলের সদস্য ছিলেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়ার নেপালি ও তিব্বতি কমিউনিটিতেও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। Assistant Immigration Minister Matt Thistlethwaite জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং কমিউনিটির সদস্যদের সহায়তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

NSW-এর সহায়তার প্রস্তুতি

দুর্যোগের ব্যাপকতার প্রেক্ষাপটে নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ উদ্ধার ও জরুরি সেবার কর্মী পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহায়তার প্রয়োজন বাড়তে থাকায় অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জরুরি সংস্থা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে নেপাল সরকার সীমিত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সহায়তা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। টানেল উদ্ধার, ফরেনসিক ও DNA শনাক্তকরণের মতো বিশেষায়িত কাজে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষতা ব্যবহার করা হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নেপালের কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন ও অনুরোধ অনুযায়ী ভবিষ্যতে মানবিক সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: