অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নীতিতে বড় কড়াকড়ি: শিক্ষার্থী ও ভিজিটর ভিসা টার্গেটে


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৭, ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নীতিতে বড় কড়াকড়ি: শিক্ষার্থী ও ভিজিটর ভিসা টার্গেটে

অস্ট্রেলিয়ার আলবানিজি নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন পরিকল্পনায় বিশেষভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও ভিজিটর ভিসা ব্যবস্থায় আরও কঠোর নিয়ম আরোপের বিষয়টি সামনে এসেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন বা বিদেশ থেকে নিট অভিবাসনের সংখ্যা কমানো এবং এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় গিয়ে দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় থাকার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা।

শিক্ষার্থী ভিসায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অবস্থান করে নতুন করে Student Visa আবেদন করার সুযোগ আরও সীমিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে নিম্নস্তরের ভোকেশনাল বা অন্য কোর্সে ভর্তি হয়ে নতুন স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সরকার এমন তথাকথিত “visa hopping” বন্ধ করতে চায়, যেখানে একজন ব্যক্তি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন অস্থায়ী ভিসায় থেকে দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেন।

শিক্ষার্থীদের পরিবারের ভিসাতেও কড়াকড়ি

রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন সীমাবদ্ধতা আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তবে পোস্টগ্র্যাজুয়েট গবেষণা শিক্ষার্থী এবং সরকারি স্কলারশিপপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষার্থীর পরিবারের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হতে পারে।

ভিজিটর ভিসার মেয়াদ কমতে পারে

নতুন পরিকল্পনায় কিছু শ্রেণির Visitor Visa-এর মেয়াদ ১২ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করার প্রস্তাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পরিবর্তন নভেম্বর থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত নিয়ম এবং কোন কোন ভিসা ক্যাটাগরি এর আওতায় পড়বে, তা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভিজিটর ভিসা থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার পথেও বাধা

লেবার সরকারের পরিকল্পনার আরেকটি অংশ হলো অস্ট্রেলিয়ায় ভিজিটর হিসেবে এসে পরে অন্য ধরনের ভিসার আবেদন করে দীর্ঘ সময় অবস্থানের সুযোগ কমানো।

এর আগে ABC জানিয়েছিল, সরকার ভিজিটর ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসে কিছু পারিবারিক ভিসার জন্য অনশোর আবেদন করার সুযোগ সীমিত করার পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে।

কেন এই কড়াকড়ি?

অস্ট্রেলিয়ার পোস্ট-কোভিড সময়ে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ২০২২–২৩ অর্থবছরে এটি প্রায় ৫৩৮,৩৪০-এ পৌঁছেছিল।

লেবার সরকার ২০২৭–২৮ অর্থবছরের মধ্যে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন প্রায় ২২৫,০০০-এ নামিয়ে আনার পূর্বাভাস দিয়েছে। এজন্য অস্থায়ী ভিসায় দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান কমানোকে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় থাকা দক্ষ কর্মীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন

অন্যদিকে সরকার ইতোমধ্যে Skilled Visa প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে অবস্থানরত কিছু দক্ষ কর্মীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, AUKUS-সংশ্লিষ্ট কাজ, নির্মাণ, স্বাস্থ্য এবং বয়স্কসেবা খাতে কর্মরত আবেদনকারীরা দ্রুততর প্রসেসিং সুবিধা পেতে পারেন। সরকারের যুক্তি হলো, ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা দক্ষ কর্মীদের স্থায়ী ভিসায় নেওয়া হলে নতুন করে বিদেশ থেকে লোক আসার প্রয়োজন কিছুটা কমবে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কী করা উচিত?

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অথবা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রস্তাব এবং ইতোমধ্যে আইনে কার্যকর নিয়মকে আলাদা করে দেখা।

২৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অভিবাসন সংস্কারের কিছু বিষয় এখনো সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণা ও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

তাই কোনো কোর্স পরিবর্তন, নতুন ভিসা আবেদন অথবা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার Department of Home Affairs-এর সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: