

ইউরোপ ও আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে ‘জয়েন্ট এক্সপেডিশনারি ফোর্স’-এর পূর্ণ সদস্য হতে চায় অটোয়া।যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রতিরক্ষানির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ব্রিটেনের নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট এক্সপেডিশনারি ফোর্স—জেইএফে (JEF) যোগদানের আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে কানাডা।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কার্যালয় জানিয়েছে, দেশটি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল এই বহুজাতিক সামরিক জোটের পূর্ণ সদস্য হওয়ার আবেদন জমা দিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার কানাডার অংশগ্রহণের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
উত্তর ইংল্যান্ডে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠকের পর কার্নি এ ঘোষণা দেন। বৈঠকে সামরিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প, উন্নত যুদ্ধবিমান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
কী এই জয়েন্ট এক্সপেডিশনারি ফোর্স?
জেইএফ হলো ব্রিটেনের নেতৃত্বাধীন একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল সামরিক অংশীদারত্ব। সংকট বা নিরাপত্তা হুমকির সময় সদস্যদেশগুলো যৌথ সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রয়োজন হলে সম্মিলিত অভিযান পরিচালনা করতে পারে।
বর্তমানে জোটটির সদস্য:
সব সদস্যদেশই ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত। জেইএফ প্রধানত উত্তর আটলান্টিক, বাল্টিক সাগর ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেয়।
কানাডা ইতোমধ্যে ন্যাটোর সদস্য হলেও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও দ্রুত ও কার্যকর সামরিক সমন্বয় গড়ে তুলতে জেইএফে যোগ দিতে চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা
দীর্ঘদিন ধরে কানাডার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্যে অটোয়া এখন ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।
জেইএফের সদস্যপদ পেলে কানাডা উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের সামরিক পরিকল্পনা, যৌথ মহড়া এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আরও সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারবে।
বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা এবং নতুন নৌপথ ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে কানাডার কাছে এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উন্নত যুদ্ধবিমান প্রকল্পেও আগ্রহ
কার্নি ও বার্নহাম গ্লোবাল কমব্যাট এয়ার প্রোগ্রাম—জিসিএপি নিয়েও আলোচনা করেছেন। ব্রিটেন, ইতালি ও জাপানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রকল্পে পরবর্তী প্রজন্মের উন্নত যুদ্ধবিমান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
কানাডা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই প্রকল্পে পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেয়। এখন দেশটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বিমান নির্মাণ এবং সামরিক শিল্পে আরও বড় ধরনের সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করছে।
দুই নেতা কানাডার আলবার্টায় অবস্থিত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র আধুনিকায়ন এবং নতুন সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি পরীক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা করেছেন।
সদস্যপদ এখনো নিশ্চিত নয়
আনুষ্ঠানিক আবেদন করলেও কানাডার সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। জেইএফের বর্তমান সদস্যদেশগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন হবে। আবেদনটি কবে পর্যালোচনা বা অনুমোদিত হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
সদস্যপদ দেওয়া হলে কানাডা হবে জেইএফের প্রথম উত্তর আমেরিকান সদস্য এবং জোটটির সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১১।
কানাডার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তিত বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। দেশটি ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় রেখেই ব্রিটেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাইছে।














































আপনার মতামত লিখুন :