

ইউক্রেনে তৈরি নতুন একটি ড্রোনবিধ্বংসী অস্ত্র পরীক্ষামূলকভাবে রাশিয়ার ব্যবহৃত দ্রুতগতির jet-powered Shahed ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের দাবি, নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি পরীক্ষায় সফল হলেও পুরোপুরি কার্যকরভাবে মোতায়েন করার আগে এতে আরও কারিগরি উন্নয়ন প্রয়োজন। যুদ্ধক্ষেত্রের দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাশিয়ার আগের Shahed ড্রোনগুলো সাধারণত propeller বা পাখাচালিত ছিল। নতুন jet-powered সংস্করণ ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে উড়তে পারে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
অতিরিক্ত গতির কারণে প্রচলিত মেশিনগান, ছোট interceptor drone এবং স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এগুলোকে ভূপাতিত করা অনেক কঠিন। দ্রুতগতির ড্রোনগুলো আবাসিক এলাকা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং সামরিক স্থাপনায় আকস্মিক হামলার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার রাতভর আকাশ হামলার সময় তারা মোট ১৮৭টি আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। ইউক্রেনের হিসাবে রাশিয়ার পাঠানো ড্রোনের প্রায় ৯৩ শতাংশ প্রতিহত করা হয়েছে।
তবে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র, বিশেষ করে ballistic missile প্রতিহত করা এখনো ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য দেশটি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও বেশি উন্নত interceptor missile ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম চেয়েছে।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর ইউক্রেন স্থানীয়ভাবে ড্রোন এবং ড্রোনবিধ্বংসী প্রযুক্তি তৈরিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে দেশটির ৬০টির বেশি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের interceptor, sensor, electronic warfare এবং স্বল্পমূল্যের guided missile তৈরিতে কাজ করছে।
প্রতিটি ব্যয়বহুল রুশ ড্রোন ধ্বংস করতে অত্যন্ত দামি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়। তাই কম খরচে তৈরি এবং দ্রুত মোতায়েনযোগ্য প্রতিরক্ষা অস্ত্র উদ্ভাবনকে কিয়েভ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
জেলেনস্কি ইউরোপীয় দেশগুলোকে দ্রুত যৌথ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। প্রস্তাবিত ইউরোপীয় ব্যবস্থাটির নাম দেওয়া হয়েছে Freyja।
ইউক্রেন মনে করে, রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শুধু ইউক্রেনের জন্য নয়; ইউরোপের সীমান্তবর্তী দেশগুলোর আকাশসীমা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্যও দীর্ঘমেয়াদি হুমকি।
ইউক্রেন জানিয়েছে, ইরানি নকশার ড্রোন মোকাবিলায় অর্জিত অভিজ্ঞতা মধ্যপ্রাচ্যের আক্রান্ত দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিতে তারা প্রস্তুত। সাম্প্রতিক সংঘাতে একই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের কারণে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বেড়েছে।
নতুন অস্ত্রের সফল পরীক্ষা ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে মোতায়েন, উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি অঞ্চলে পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দ্রুতগতির রুশ ড্রোনের হুমকি কমছে না।












































আপনার মতামত লিখুন :