অস্ট্রেলিয়ায় জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হওয়ার আশঙ্কা


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ৬:২৩ পূর্বাহ্ন
অস্ট্রেলিয়ায় জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হওয়ার আশঙ্কা

AusBangla News Desk: অস্ট্রেলিয়ায় আগামী চার দশকের মধ্যে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হতে পারে। দেশটির সর্বশেষ Intergenerational Report 2026-এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, নিম্ন জন্মহার এবং দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা জনসংখ্যার কারণে ২০৬০-এর দশকে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়ে যেতে পারে।

অর্থাৎ, অভিবাসন বাদ দিলে দেশে যত শিশু জন্ম নেবে, তার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হবে। অস্ট্রেলিয়ার কোনো Intergenerational Report-এ এমন পূর্বাভাস এবারই প্রথম দেওয়া হয়েছে।

সন্তান জন্মদানের হার রেকর্ড নিম্নমুখী

অস্ট্রেলিয়ার মোট সন্তান জন্মদানের হার প্রয়োজনীয় প্রতিস্থাপনমাত্রা—নারীপ্রতি ২.১ সন্তান—থেকে অনেক নিচে রয়েছে। সরকারি ২০২৫ Population Statement অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এই হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ১.৪২-এ নেমে যেতে পারে।

সর্বশেষ দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০৩১ সালের দিকে জন্মহার সামান্য বেড়ে নারীপ্রতি ১.৫ সন্তানে পৌঁছালেও ২০৬৫–৬৬ সালের মধ্যে তা কমে ১.৩৪-এ নেমে যেতে পারে।

পরিবার শুরু করতে দেরি করা, বাড়ির উচ্চমূল্য, আবাসনের অনিশ্চয়তা, কর্মজীবন প্রতিষ্ঠার চাপ, শিশুযত্নের ব্যয় এবং কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নমনীয়তার অভাব—জন্মহার কমে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

৮৫ বছরের বেশি মানুষের সংখ্যা তিন গুণ হবে

অস্ট্রেলীয়দের গড় আয়ু বাড়ার পাশাপাশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়বে। ২০৬৫–৬৬ সালের মধ্যে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বর্তমানের প্রায় ৬ লাখ ২৫ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ১৯ লাখে পৌঁছাতে পারে।

একই সময়ে নারীদের গড় আয়ু প্রায় ৮৯.৫ বছর এবং পুরুষদের গড় আয়ু ৮৬.১ বছরে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। তবে দীর্ঘ জীবনযাপনের পাশাপাশি বহু মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ে বেঁচে থাকতে হতে পারে।

বয়স্ক জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির কারণে বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যা বর্তমান সময়ের গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার থেকে বেড়ে ২০৬৫–৬৬ সালে প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজারে পৌঁছাতে পারে।

ধীর হবে জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

গত চার দশকে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা বছরে গড়ে প্রায় ১.৪ শতাংশ হারে বেড়েছে। আগামী চার দশকে এই প্রবৃদ্ধি কমে গড়ে প্রায় ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

২০৬৫–৬৬ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৯৩ লাখে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে—যা আগের সরকারি পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় ১৮ লাখ কম।

কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত কমে গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর আদায় এবং সরকারি বাজেটের ওপর চাপ বাড়বে। মাথাপিছু প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP প্রবৃদ্ধি আগামী চার দশকে বছরে গড়ে প্রায় ১.২ শতাংশ হতে পারে, যা আগের চার দশকের ১.৫ শতাংশের তুলনায় কম।

স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধসেবায় বাড়বে চাপ

বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লে হাসপাতাল, চিকিৎসা, প্রতিবন্ধী সহায়তা ও aged-care সেবার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এসব খাতে প্রয়োজন হবে আরও চিকিৎসক, নার্স, পরিচর্যাকারী এবং দক্ষ কর্মী।

বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি—এমন আঞ্চলিক এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধসেবা কর্মীর ঘাটতি আরও তীব্র হতে পারে। বর্তমানে এই খাতগুলোর একটি বড় অংশ অভিবাসী কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল।

অভিবাসনের গুরুত্ব আরও বাড়বে

জন্মের তুলনায় মৃত্যু বেশি হলেও অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যা সঙ্গে সঙ্গে কমতে শুরু করবে না। দক্ষ অভিবাসন জনসংখ্যা ও কর্মশক্তি বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

তবে অভিবাসন কমানো হলে জনসংখ্যার বয়সজনিত ভারসাম্যহীনতা, শ্রমিকসংকট এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি আরও প্রকট হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

ট্রেজারার জিম চালমার্স বলেছেন, ২০৬০-এর দশকে প্রথমবারের মতো মৃত্যুর সংখ্যা জন্মকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনমিতিক পরিবর্তনের সংকেত।

প্রশ্ন এখন—আবাসন, শিশুযত্ন ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমিয়ে পরিবার গঠনের পরিবেশ সৃষ্টি এবং পরিকল্পিত দক্ষ অভিবাসনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া কি আসন্ন জনসংখ্যাগত সংকট মোকাবিলা করতে পারবে?

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: