মাত্র ১০ সেকেন্ডে রক্ষা: প্রধান শিক্ষকের বুদ্ধিমত্তায় বাঁচল ৯০০ শিশু


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন
মাত্র ১০ সেকেন্ডে রক্ষা: প্রধান শিক্ষকের বুদ্ধিমত্তায় বাঁচল ৯০০ শিশু

AusBangla News Desk: নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার মধ্যে অসাধারণ সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে ৯০০ শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করেছেন একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। রাজেন্দ্র দাওয়াদি নামের ওই শিক্ষককে এখন দেশটির মানুষ ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিভুবন ত্রিশূলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তখন নিয়মিত পাঠদান চলছিল। বিদ্যালয়টিতে মোট প্রায় ১,৬০০ শিক্ষার্থী থাকলেও ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিল প্রায় ৯০০ জন।

উজানের বেত্রাবতী এলাকা থেকে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে চারটি সতর্কবার্তা পান প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। তাঁকে জানানো হয়, ভয়ংকর গতিতে পানি, বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত বিদ্যালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে।

এক মুহূর্তও দেরি না করে তিনি ক্লাস বন্ধ করে ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বই-ব্যাগ ফেলে দ্রুত পাহাড়ের উঁচু স্থানে চলে যেতে বলা হয়। আতঙ্কিত শিশুরা কাদামাখা সরু পথ ও বিদ্যালয়ের পেছনের সিঁড়ি ব্যবহার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছায়।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভয়াবহ স্রোত বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা গ্রাস করে। ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউনিশা আমাত্য বলেন, “আমি ও আমার বন্ধুরা মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে বেঁচে গেছি।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পরপরই তাদের চোখের সামনে বাজার ও বিভিন্ন স্থাপনা স্রোতে ভেসে যায়।

প্রধান শিক্ষক দাওয়াদি বলেন, সিদ্ধান্ত নিতে আর ১০ মিনিট দেরি হলে তিনি ও তাঁর শিক্ষার্থীদের কেউই হয়তো আজ জীবিত থাকতেন না। তবে তাঁকে বীর বলা হলেও বিনয়ের সঙ্গে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা তাঁর দায়িত্ব ছিল।

হিমালয়ের নেপাল–তিব্বত সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসে এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। দুর্যোগে নেপালে শত শত মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। অন্তত ৬৯টি বিদ্যালয় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ১৯ হাজার শিশুর শিক্ষা ব্যাহত হয়েছে।

মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যেও রাজেন্দ্র দাওয়াদির সাহস, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ববোধ মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: