

অস্ট্রেলিয়ায় সম্পত্তিতে বিনিয়োগের জন্য পরিবারের কাছ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি অর্থ পাওয়া এক সাবেক চীনা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আদালতে আপিল করে হেরে গেছেন।
২৯ বছর বয়সী অ্যালেন শু দাবি করেছিলেন, তাঁর মা-বাবার পাঠানো অর্থ ছিল উপহার। তবে আদালত বলেছেন, অর্থগুলো তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে খরচ করার জন্য দেওয়া হয়নি; বরং তাঁর মা জিয়ুন মার পক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তিতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল।
পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আগমন
আদালতের নথি অনুযায়ী, অ্যালেন শু ২০২০ সালের দিকে পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিংয়ে ডাবল ডিগ্রি এবং ইউনিভার্সিটি অব সিডনি থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
তাঁর পড়াশোনার খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতেন তাঁর মা। পড়াশোনা শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে বিনিয়োগ ভিসার যোগ্যতা অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর মা-বাবা প্রায় ৫০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার দেন।
২০২১ সালের এপ্রিলে সিডনির হে মার্কেটে একটি সম্পত্তি কেনার জন্য তাঁর মা আরও প্রায় ২০ লাখ ডলার পাঠান। সম্পত্তিটি অ্যালেনের নামে নিবন্ধিত হলেও অর্থটি তাঁর মায়ের ছিল বলে উভয় পক্ষ প্রথমে সম্মত হয়েছিল।
এরপর ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের মে পর্যন্ত চীন, সিঙ্গাপুর ও কানাডার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে নয়টি লেনদেনের মাধ্যমে তাঁকে আরও ১ কোটি ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৩২২ ডলার পাঠানো হয়।
বিলাসী ব্যয়ে অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ
আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়েছে, মায়ের পক্ষে সম্পত্তিতে বিনিয়োগের পরিবর্তে অ্যালেন অর্থের একটি অংশ চোখের পাতার কসমেটিক সার্জারি, দামি গয়না, গাড়ি এবং সিডনির ওয়েন্টওয়ার্থ পয়েন্টে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার কাজে ব্যবহার করেন। অবশিষ্ট অর্থের একটি অংশ নিজের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে রাখেন।
২০২২ সালের জুনে বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর মা অর্থ ফেরত চান। পরে ২০২২ সালের নভেম্বরে ছেলের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন।
উইচ্যাট বার্তাই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ
অ্যালেন দাবি করেন, অর্থগুলো তাঁকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালতে উপস্থাপিত উইচ্যাট বার্তা ও ক্ষমা চেয়ে লেখা খসড়া চিঠিগুলো তাঁর দাবিকে দুর্বল করে দেয়।
এসব বার্তায় তিনি অর্থ ও সম্পদ তাঁর মায়ের—এমন স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়।
২০২৫ সালের জুনে ভিক্টোরিয়ান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডেভিড ক্রফট অ্যালেনকে ৩১ লাখ ২০ হাজার ৪৪৫ ডলার এবং প্রায় ৯ লাখ ৮৯ হাজার ডলার সুদ পরিশোধের নির্দেশ দেন। সব মিলিয়ে তাঁকে ৪১ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দিতে হবে।
একই সঙ্গে হে মার্কেট ও ওয়েন্টওয়ার্থ পয়েন্টের দুটি সম্পত্তি তাঁর মায়ের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অ্যালেন শু ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট ভিক্টোরিয়ান কোর্ট অব আপিল তাঁর আবেদন খারিজ করে আগের আদেশ বহাল রাখেন।














































আপনার মতামত লিখুন :