রেকর্ড শক্তিশালী এল নিনোর মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ায় এত বৃষ্টি কেন?


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২২, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ন
রেকর্ড শক্তিশালী এল নিনোর মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ায় এত বৃষ্টি কেন?

অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়ায় এখন এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী El Niño সক্রিয়—যা সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার বড় অংশে শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। অথচ একের পর এক বৃষ্টিবাহী ব্যবস্থা দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। ABC News-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সাল অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ডে সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল El Niño বছর হওয়ার পথে।

এল নিনো থাকলেও এত বৃষ্টি কেন?

এর উত্তর হলো—El Niño কোনো দৈনিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস নয়। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার একটি বৃহৎ জলবায়ু ধরণ, যা কয়েক মাসের বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে।

অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া শুধু El Niño দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। Bureau of Meteorology বলছে, Pacific Ocean, Indian Ocean এবং Southern Ocean-এর সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।

ফলে El Niño চলাকালেও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় cloudband, নিম্নচাপ, ফ্রন্ট এবং স্থানীয়ভাবে উষ্ণ সমুদ্রের আর্দ্রতা থেকে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হতে পারে।

২০২৬ সালে ইতোমধ্যেই প্রচুর বৃষ্টি

অস্ট্রেলিয়ার ২০২৫–২৬ অর্থবছরের গড় বৃষ্টিপাত ছিল ৫৯০.৪ মিলিমিটার, যা ১৯৬১–৯০ সালের গড়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। এটি রেকর্ডে দেশের দশম সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল অর্থবছর।

এরপরও একাধিক বড় rainband দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টি এনেছে। ফলে El Niño-কে সাধারণভাবে খরার সঙ্গে যুক্ত করা হলেও এবারের পরিস্থিতি বেশ ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে।

কতটা শক্তিশালী এবারের El Niño?

Bureau of Meteorology-এর সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে শক্তিশালী El Niño অব্যাহত থাকার পাশাপাশি আরও তীব্র হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে Bureau-এর ACCESS-S মডেল বছরের শেষদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩°C-এরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়েছিল। সেটি ঘটলে বর্তমান El Niño আধুনিক পর্যবেক্ষণের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটিতে পরিণত হতে পারে। তবে El Niño অত্যন্ত শক্তিশালী হলেই অস্ট্রেলিয়ায় সমান মাত্রার খরা হবে—এমন সরাসরি সম্পর্ক নেই।

সামনে কি বৃষ্টি কমবে?

বর্তমান বৃষ্টির অর্থ এই নয় যে আগামী কয়েক মাসও একইভাবে ভেজা থাকবে।

Bureau of Meteorology-এর ২০ আগস্ট প্রকাশিত সেপ্টেম্বর–ডিসেম্বর outlook অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম Western Australia, দক্ষিণ-পূর্ব Australia ও Tasmania এবং Queensland-এর কিছু অংশে গড়ের চেয়ে কম বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অস্বাভাবিক উচ্চ সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আশঙ্কাও বেড়েছে।

গরম ও দাবানলের ঝুঁকি

El Niño সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘ ও কঠিন fire season-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে প্রতিটি El Niño আলাদা এবং এর প্রভাব অন্যান্য জলবায়ু চালকের ওপরও নির্ভর করে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, উষ্ণ পৃথিবীতে বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। তাই দীর্ঘ শুষ্ক সময়ের মধ্যেও কোনো শক্তিশালী বৃষ্টিবাহী ব্যবস্থা এলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি ঘটতে পারে—যা El Niño-র প্রভাবকে আরও জটিল করে তুলছে।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য এর অর্থ কী?

বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, “El Niño মানেই সবসময় খরা” — বিষয়টি এত সরল নয়।

একদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী El Niño, অন্যদিকে Indian ও Southern Ocean-এর প্রভাব, স্থানীয় সমুদ্রের উষ্ণতা এবং স্বল্পমেয়াদি আবহাওয়া ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় একই বছরে প্রবল বৃষ্টি, শুষ্ক সময় এবং অস্বাভাবিক গরম—সবই দেখা যেতে পারে।

তাই ২০২৬ সালের El Niño শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী হবে এবং বসন্ত ও গ্রীষ্মে অস্ট্রেলিয়ার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন আবহাওয়াবিদদের বড় নজরের বিষয়।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: