ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪৭, ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খুঁজছেন উদ্ধারকারীরা


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৬, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪৭, ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খুঁজছেন উদ্ধারকারীরা

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। তাদের জীবিত উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

শনিবার ভোরে ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়সহ বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইস্ট নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চল।

ধ্বংসস্তূপে আটকা মানুষ, চলছে মরিয়া উদ্ধার অভিযান

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য দুটি হেলিকপ্টার ও একটি বিমান প্রস্তুত করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি নাগেকেও এলাকায় ভূমিধসে সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোর সেখানে পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। সড়কপথ বন্ধ থাকায় কিছু উদ্ধারকারী দল ফেরির মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

দুই হাজারের বেশি মানুষ ঘর ছেড়েছেন

ভূমিকম্পের পর দুই হাজারের বেশি মানুষ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক পরিবার খোলা মাঠ ও উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালগুলোর রোগীদেরও অস্থায়ী তাঁবুতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ১৫৭টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, আরও ১৮৯টি বাড়ি মাঝারি বা সামান্য ক্ষতির শিকার হয়েছে। ৮৭টি স্কুল, ১৮টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, পাঁচটি উপাসনালয় এবং কয়েকটি সরকারি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা

শক্তিশালী কম্পনের পর ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এক মিটারের কম উচ্চতার ঢেউ কয়েকটি উপকূলে রেকর্ড করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

ভয়াবহ কম্পনের পর আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় ও উঁচু এলাকায় ছুটে যান। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায় তারা এখনও বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।

নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা

ইস্ট নুসা তেঙ্গারার গভর্নর জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খোঁজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দুর্গত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ ‘Pacific Ring of Fire’ অঞ্চলে অবস্থিত। টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে দেশটিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: