পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক মসজিদ থেকে খুলে ফেলা হচ্ছে মাইক, শুভেন্দু বলছেন— ‘আদালতের নির্দেশ’


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৯, ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্ন
পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক মসজিদ থেকে খুলে ফেলা হচ্ছে মাইক, শুভেন্দু বলছেন— ‘আদালতের নির্দেশ’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক মসজিদের লাউডস্পিকার খুলে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুসলিম নেতাদের অভিযোগ, আজানের জন্য ব্যবহৃত মাইক সরাতে বিভিন্ন মসজিদের ওপর পুলিশ চাপ সৃষ্টি করছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শব্দদূষণবিষয়ক বিধি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এমন অবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী শুক্রবার (৭ আগস্ট) এ বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে উত্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী তিন সংসদ সদস্য— সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান ও আবু তাহের খান বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দিয়ে শব্দদূষণবিষয়ক বিধি কার্যকর করার আহ্বান জানান।

ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণবিষয়ক বিধি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি সরকার। এ বিধি অনুযায়ী, দিনে সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে সর্বোচ্চ ৪৫ ডেসিবেল শব্দের অনুমতি রয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশকে এ ডেসিবেলসীমা কার্যকর করতে বলা হয়েছে। কয়েকজন ইমাম জানিয়েছেন, মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলোকে লাউডস্পিকারের পরিবর্তে সাউন্ড বক্স ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

অঅর এই বিতর্কের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তার সরকার শুধু আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে। তার ভাষ্য, মসজিদ ও মন্দিরের শব্দ নিজ নিজ প্রাঙ্গণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, বাইরে ছড়িয়ে পড়া যাবে না। এ বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশের নির্দেশনার পর মসজিদ ও মন্দির মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ২৯৯টি লাউডস্পিকার খুলে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২০৩টি মসজিদ থেকে এবং ১ হাজার ৯৬টি মন্দির থেকে সরানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশকে কঠোর আচরণ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলো প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, সব ধর্মের মানুষেরই নিজ নিজ ধর্ম পালনের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। আমরা এ বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দুরা যেমন মন্দিরে গিয়ে পূজা করার স্বাধীনতা ভোগ করবে, তেমনি মুসলমানরাও মসজিদে গিয়ে আজান দিতে ও নামাজ আদায় করতে পারবে। এটাই আমাদের সংস্কৃতি এবং এটি অটুট থাকা উচিত।’

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, এ সমস্যার সমাধান না হলে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে লাউডস্পিকার খুলে ফেলতে চাপ দিয়েছেন।

ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে হাইকোর্টে যেতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন, এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হয়েছিল কি না।

চিঠিতে ভাঙড়ের এ বিধায়ক বলেন, অনেক মসজিদ কমিটি ইতোমধ্যে লাউডস্পিকারের শব্দ কমিয়ে দিয়েছে। যারা বিধি লঙ্ঘন করছে, তাদের আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেয়া উচিত। তিনি শব্দদূষণবিষয়ক বিধি বাস্তবায়নে একটি মানসম্মত কার্যপদ্ধতি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) প্রণয়ন এবং ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন— এমন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তেরও দাবি জানান।

তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে সবাই প্রতিবাদ করার অধিকার রাখে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বৈত মানদণ্ড পরিহার করা উচিত।রাজনৈতিক সংবাদ

তিনি বলেন, ‘এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সবাই প্রতিবাদ করতে পারে। এটি বাবরের শাসন নয়, আবার তুঘলকি শাসনও নয়’। তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমার মতই চলবে, অন্য কারও মত চলবে না—এ ধরনের রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের মানুষ গ্রহণ করবে না।’

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: