বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত

AusBangla News Desk: সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থায় আলোচনায় প্রস্তুত নয়াদিল্লি; বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী পথে এগিয়ে নিতে চায় ভারত। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় নয়াদিল্লি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জয়সওয়াল বলেন, “ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়। বর্তমানে থাকা কাঠামোগত ব্যবস্থার মধ্যেই আমরা সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত।”

আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগে ভারতের সম্মতি

বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে ভারত আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে।

এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, সিয়ামের নিয়োগে সম্মতি দিতে নয়াদিল্লি বিলম্ব করছে। তবে দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পর মঙ্গলবার তাঁর নিয়োগের ‘এগ্রিমো’ বা আনুষ্ঠানিক সম্মতি অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিয়াম বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ পেশাদার কূটনীতিক। তিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ব্যাংকক, জাকার্তা, ম্যানচেস্টার ও মিলানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে কাজ করেছেন।

বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে বদলি করা হচ্ছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন আসাদ আলম সিয়াম।

সম্পর্ক কি আবার স্বাভাবিক হচ্ছে?

সাংবাদিকেরা জানতে চান, বাংলাদেশের একজন শীর্ষ কূটনীতিককে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো এবং তাঁর নিয়োগে ভারতের সম্মতি—দুই দেশের সম্পর্ক আবার সঠিক পথে ফেরার ইঙ্গিত কি না।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে ভারত আগেও তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। নয়াদিল্লির লক্ষ্য হলো পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়া।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়। ভারত সরকার তাঁকে দুই দফা নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে ভারত সফর করতে পারেন। তবে সফরের তারিখ বা কর্মসূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, প্রস্তাবিত সফরের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া কথিত তিনটি শর্ত এখনো বহাল আছে কি না। রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে রয়েছেন। সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর অথবা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের কোনো বৈঠক হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য নেই। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে পরে জানানো হবে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বড় অমীমাংসিত বিষয়

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়েছে। ভারত জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় অনুরোধটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে নয়াদিল্লি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ভারত থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার নিয়েও ঢাকা অসন্তোষ জানিয়েছে। বাংলাদেশ মনে করছে, সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে হলে এসব সংবেদনশীল বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে বাংলাদেশ

সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে ভারতের বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’-তে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত যোধপুর বিমানঘাঁটিতে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশসহ সাতটি বিদেশি দেশ এতে অংশ নেবে বলে জানানো হয়েছে।

দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি করলেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি বণ্টন এবং পারস্পরিক নিরাপত্তাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো বাস্তব অগ্রগতি প্রয়োজন।

ভারতের ইতিবাচক বক্তব্য এখন দুই দেশের সম্পর্কে নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে—তবে সেই বক্তব্য কার্যকর সহযোগিতায় কতটা রূপ নেয়, সেটিই হবে পরবর্তী পরীক্ষার বিষয়।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: