বন্ডি হামলার পর বড় অস্ত্র ফেরত কর্মসূচিতে চুক্তি: ‘যা কিছু সম্ভব করতে হবে’—আলবানিজ


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৬, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন
বন্ডি হামলার পর বড় অস্ত্র ফেরত কর্মসূচিতে চুক্তি: ‘যা কিছু সম্ভব করতে হবে’—আলবানিজ

সিডনি, ১৬ আগস্ট: গত বছরের ভয়াবহ বন্ডি বিচ সন্ত্রাসী হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বড় ধরনের গান বাইব্যাক বা অস্ত্র ফেরত কেনার কর্মসূচি নিয়ে ফেডারেল সরকার ও নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) সরকারের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর ২০২৬ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, বন্ডির মতো ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে সরকারকে সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে। তিনি বলেন, এর মধ্যে অর্থবহ ও কার্যকর জাতীয় অস্ত্র সংস্কারও অন্তর্ভুক্ত।

২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর সিডনির বন্ডি বিচে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলায় ১৫ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার অস্ত্র আইন ও আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার অস্ত্র প্রভাবিত হতে পারে

নতুন ব্যবস্থায় NSW-তে নিবন্ধিত প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র, যা রাজ্যের মোট নিবন্ধিত অস্ত্রের প্রায় এক-চতুর্থাংশ, প্রভাবিত হতে পারে। প্রায় ৫০ হাজার অস্ত্র লাইসেন্সধারী নতুন বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন নিয়মে অধিকাংশ লাইসেন্সধারী সর্বোচ্চ চারটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারবেন। তবে কৃষক ও নির্দিষ্ট স্পোর্টিং শুটারদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০টি অস্ত্র রাখার সুযোগ থাকবে। কিছু অস্ত্রের শ্রেণিবিন্যাসও পরিবর্তন করা হয়েছে এবং লাইসেন্স ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ

কর্মসূচির প্রথম ধাপে অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অর্থ দেওয়া হবে। এয়ার রাইফেলের জন্য ক্ষতিপূরণ শুরু হবে ৪৫০ ডলার থেকে এবং সেন্টার-ফায়ার রাইফেল ও রিভলভারের জন্য সর্বোচ্চ ১,০০০ ডলার পর্যন্ত দেওয়া হবে।

২০২৭ সালের শুরু থেকে দ্বিতীয় ধাপে বেশি মূল্যের অস্ত্রের মালিকরা ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে। অস্ত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া গোলাবারুদের জন্যও নির্ধারিত অর্থ প্রদান করা হবে।

যোগ্য অস্ত্র ব্যবসায়ী ও ডিলারদের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলারের অনুদান এবং এককালীন লাইসেন্স ফি সহায়তাও থাকবে।

NSW ও ফেডারেল সরকার ভাগ করবে ব্যয়

অস্ত্র ফেরত নেওয়া ও কর্মসূচি পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয় NSW সরকার এবং ফেডারেল সরকার সমানভাবে ভাগ করবে। জমা দেওয়া অস্ত্র ধ্বংসের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে ফেডারেল সরকার।

NSW প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস বলেছেন, এই কর্মসূচির ব্যয় কয়েকশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে জননিরাপত্তার স্বার্থে এই ব্যয় প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন তিনি।

মিনস বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট অস্ত্রগুলো জমা নেওয়া, মালিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং অস্ত্রগুলো নিরাপদে ধ্বংস করা। তাঁর মতে, সমাজে বিপজ্জনক অস্ত্রের সংখ্যা যত কমবে, নিউ সাউথ ওয়েলস তত নিরাপদ হবে।

জাতীয় পর্যায়ে এখনও মতবিরোধ

যদিও ফেডারেল সরকার জাতীয় পর্যায়ে অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়, সব রাজ্য এখনো এতে একমত হয়নি। কুইন্সল্যান্ড ও ভিক্টোরিয়া পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছে। নর্দার্ন টেরিটরি জানিয়েছে, তারা এ কর্মসূচিতে অর্থ দেবে না।

অন্যদিকে ACT ও Tasmania কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হলেও অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। Western Australia ইতোমধ্যে নিজস্ব অস্ত্র ফেরত কর্মসূচি শেষ করেছে এবং জাতীয় উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও অস্ত্র মালিকদের কিছু সংগঠন এই উদ্যোগের সমালোচনা করছে। তাদের বক্তব্য, অপরাধ না করা বৈধ অস্ত্র মালিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হচ্ছে। One Nation নেতা Pauline Hanson এবং Nationals-এর কয়েকজন নেতা এই কর্মসূচির বিরোধিতা করেছেন।

অন্যদিকে সরকার বলছে, বন্ডির ঘটনার পর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলার ঝুঁকি কমাতে কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এখন জরুরি।

Pic: AI Generate

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: