

অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত ভবনের সামনে নীরব ও প্রতীকী দৃশ্য, যেখানে ন্যায়বিচারের প্রতীক (Justice scale) এবং সহায়তা সেবার ইঙ্গিত হিসেবে সমর্থনমূলক আলো বা হেল্পলাইন প্রতীক দেখানো হয়েছে—যা যৌন সহিংসতার শিকারদের জন্য ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক বিচারব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।
যৌন সহিংসতা ও যৌন অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান বিচারব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়—এমন উদ্বেগ আবারও সামনে এসেছে। ভুক্তভোগীদের সহায়তা, মামলা পরিচালনা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সহায়তা সংস্থাগুলো।
Full Stop Australia-এর মতে, দেশের বিচারব্যবস্থা মূলত যৌন সহিংসতার শিকার ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সংস্থাটি বিচারব্যবস্থায় ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে বিভিন্ন সংস্কারের সুপারিশ করেছে।
বিচার পেতে নানা বাধা
যৌন সহিংসতার ঘটনা পুলিশের কাছে জানানো থেকে শুরু করে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া একজন ভুক্তভোগীর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘসূত্রতা, জটিল আইনি প্রক্রিয়া এবং পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাটর্নি-জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, যৌন সহিংসতার ঘটনায় ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া উন্নত করতে ইতোমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। Australian Law Reform Commission-এর এ-সংক্রান্ত তদন্তে আইন, বিচারব্যবস্থার কার্যক্রম, ভুক্তভোগীদের সহায়তা এবং বিকল্প বিচারপদ্ধতি পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ৬৪টি সুপারিশ করা হয়েছে।
সহায়তা সেবার ওপর বাড়ছে চাপ
সমস্যা শুধু আদালত বা পুলিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যৌন সহিংসতার শিকারদের সহায়তাকারী বিভিন্ন সেবাও ক্রমবর্ধমান চাহিদার চাপে রয়েছে।
২০২৬ সালের এপ্রিলে ABC-এর এক প্রতিবেদনে National Association of Services Against Sexual Violence-এর চেয়ার নিকোল ল্যামবার্ট বলেন, দেশজুড়ে যৌন নির্যাতন সহায়তা সেবাগুলো ব্যাপক চাহিদার চাপে রয়েছে। প্রতিবেদনে Australian Bureau of Statistics-এর তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, ২০২৪–২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী আনুমানিক ৮৯,৪০০ মানুষ যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
প্রয়োজন ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ব্যবস্থা
বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের দাবি, যৌন অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক করতে হবে। ভিক্টোরিয়ায় পরিচালিত আইন সংস্কার পর্যালোচনাতেও যৌন সহিংসতার প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা চাপের মধ্যে থাকার কথা উঠে এসেছে এবং বিশেষায়িত সেবা, পুলিশ ও প্রসিকিউশনসহ সংশ্লিষ্ট খাতে পর্যাপ্ত সম্পদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় ইতোমধ্যে যৌন সহিংসতা মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল আইন পরিবর্তন করলেই হবে না—ভুক্তভোগীরা যেন অভিযোগ জানানোর পর নিরাপদ বোধ করেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা পান এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন করে মানসিক আঘাতের মুখে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।














































আপনার মতামত লিখুন :