

অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ H5 বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়া নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভাইরাসটি একবার বন্য পাখির মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এর বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ করা বাস্তবে সম্ভব নয়। তবে পোলট্রি খামার ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশীয় পাখির প্রজাতিকে রক্ষায় জোরদার বায়োসিকিউরিটি ও টিকাদানসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৬ সালের জুনে পরিযায়ী ও বন্য পাখির মধ্যে প্রথম H5 বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়। এরপর দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, ভিক্টোরিয়া, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস, কুইন্সল্যান্ড এবং তাসমানিয়াতেও সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট রাত ৮টা পর্যন্ত দেশে বন্য পাখির মধ্যে ২৩৬টি নিশ্চিত শনাক্তের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ পৃথক পাখির সংখ্যা প্রকাশের পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ সংক্রমণ-ঘটনা ও নতুন এলাকায় বিস্তারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে ভিক্টোরিয়ার ফিলিপ আইল্যান্ডে একটি পেঙ্গুইনের শরীরে H5N1 শনাক্ত হওয়ার পর। স্থানীয় পেঙ্গুইন কলোনিকে সুরক্ষিত রাখতে হাজার হাজার পেঙ্গুইনকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফেডারেল কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স জানিয়েছেন, সরকার পোলট্রি খামারে ভাইরাস প্রবেশ ঠেকাতে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পোলট্রি শিল্পে H5 বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি—সব নিশ্চিত শনাক্তের ঘটনা বন্য পাখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে বিপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশীয় পাখি রক্ষায় অস্ট্রেলিয়া টিকাদান কর্মসূচিও শুরু করছে। বন্দী অবস্থায় থাকা উচ্চঝুঁকির প্রজাতিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্য পাখির মধ্যে ভাইরাস নির্মূল করা সম্ভব না হলেও শক্তিশালী নজরদারি, বায়োসিকিউরিটি এবং লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি বর্তমানে কম বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অসুস্থ বা মৃত বন্য পাখি খালি হাতে স্পর্শ না করতে এবং সন্দেহজনক ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।














































আপনার মতামত লিখুন :