“কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, আওতায় আসতে পারে আরও শত শত প্রতিষ্ঠান”


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৭, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ন
“কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, আওতায় আসতে পারে আরও শত শত প্রতিষ্ঠান”

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শিল্প-নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা Safeguard Mechanism-এর আওতা আরও বাড়ানোর দাবি তুলেছেন দেশটির বড় বিনিয়োগকারীরা। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা আরও বহু প্রতিষ্ঠানকে কার্বন নিঃসরণ কমাতে হতে পারে।

Investor Group on Climate Change (IGCC)-এর জন্য EY-এর নতুন মডেলিং অনুযায়ী, Safeguard Mechanism-এর আওতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হলে বছরে প্রায় ৫ মিলিয়ন টন অতিরিক্ত নিঃসরণ কমানো সম্ভব হতে পারে। বর্তমানে এই ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার ২০০টিরও বেশি বড় শিল্প স্থাপনা এবং দেশের মোট নিঃসরণের প্রায় ৩০ শতাংশকে কভার করে।

IGCC প্রস্তাব করেছে, বর্তমানে যে নিঃসরণসীমার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যবস্থার আওতায় আসে তা ধীরে ধীরে কমিয়ে ২০৩১ সাল থেকে বছরে ৭৫ হাজার টন CO₂-equivalent নিঃসরণকারী স্থাপনাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এতে আরও বেশি ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানকে তাদের দূষণ কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

বিনিয়োগকারীরা আরও চান, ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে নিঃসরণসীমা বছরে গড়ে ৭ শতাংশ করে কমানো হোক এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের পরিস্থিতি অনুযায়ী আলাদা হারে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হোক। EY-এর মডেলিং বলছে, ৭ শতাংশ হ্রাসের হার বছরে গড়ে প্রায় ১৫ মিলিয়ন টন অতিরিক্ত নিঃসরণ কমাতে পারে, যার প্রায় ৬১ শতাংশ সরাসরি শিল্প স্থাপনাতেই কমানো সম্ভব।

IGCC বলছে, বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি দূষণ কমানোর পরিবর্তে কার্বন ক্রেডিট বা অফসেটের ওপর বেশি নির্ভর করছে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব কার্যক্রমে দ্রুত নিঃসরণ কমাতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও কার্বন মূল্যের বিষয়ে আরও স্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রয়োজন।

অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৬–২৭ সালে Safeguard Mechanism পর্যালোচনা করছে। এই পর্যালোচনার মাধ্যমে ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হলে দেশের তেল, গ্যাস, খনি ও বড় শিল্প খাতের পাশাপাশি বর্তমানে সীমার নিচে থাকা আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের বাধ্যবাধকতায় পড়তে পারে।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: