

অস্ট্রেলিয়ার আবাসনবাজারে বড় ধরনের শীতকালীন মন্দা দেখা দিয়েছে। সম্পত্তি-বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান Cotality-এর সর্বশেষ হিসাবে, শীতের তিন মাসে রাজধানী শহরগুলোর ৯৩ শতাংশ শহরতলিতে বাড়ির মূল্য কমেছে। শরৎকালে এই হার ছিল ৪৫.৮ শতাংশ।
২০২৬ সালের আগস্টে জাতীয় Home Value Index আরও ০.৯ শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে টানা পাঁচ মাস অস্ট্রেলিয়ায় আবাসিক সম্পত্তির মূল্য হ্রাস পেল। মার্চের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে জাতীয় বাড়ির মূল্য এখন ৩.৬ শতাংশ নিচে। বর্তমানে দেশের একটি আবাসিক সম্পত্তির মধ্যম মূল্য প্রায় $912,885।
রাজধানীভিত্তিক মূল্যপরিবর্তন
|রাজধানী |আগস্টে পরিবর্তন|শীতের তিন মাসে|গত ১২ মাসে|মধ্যম মূল্য |
|—–|——–:|——–:|——-:|———:|
|সিডনি |−১.৪% |−৪.৭% |−৪.৬% |$1,222,718|
|মেলবোর্ন |−১.১% |−৩.৯% |−৪.৭% |$786,718 |
|ব্রিসবেন |−১.০% |−২.৭% |+১০.৮% |$1,080,142|
|অ্যাডিলেড|−০.৮% |−১.৬% |+৮.৬% |$937,207 |
|পার্থ |−০.৮% |−৩.২% |+১৫.৬% |$999,987 |
|হোবার্ট |−০.২% |−০.২% |+৮.১% |$752,397 |
|ডারউইন|+০.৬% |+০.৯% |+১৪.৬% |$647,259 |
|ক্যানবেরা |−১.১% |−২.৮% |−০.৪% |$864,998 |
রাজধানীভিত্তিক মূল্যপরিবর্তন
তথ্য ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত; মধ্যম মূল্য বাড়ি ও ইউনিট মিলিয়ে।
সিডনিতে পতন সবচেয়ে বেশি
দেশের রাজধানীগুলোর মধ্যে সিডনির আবাসনবাজার সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে। আগস্টে মূল্য কমেছে ১.৪ শতাংশ এবং পুরো শীতে কমেছে ৪.৭ শতাংশ। ফেব্রুয়ারির সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সিডনির বাড়ির মূল্য ইতোমধ্যে ৭.১ শতাংশ নেমে গেছে।
Cotality-এর গবেষণা পরিচালক টিম ললেসের মতে, ক্রেতার চাহিদা দ্রুত কমে যাওয়া এবং বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত বাড়ির সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়ায় সিডনির বাজারে চাপ বেড়েছে।
সিডনিতে বাড়ির মধ্যম মূল্য এখন প্রায় $1.223 মিলিয়ন। তবে এটি পুরো মহানগরের গড় হিসাব; Lakembaসহ পৃথক শহরতলি, বাড়ির ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী পরিবর্তনের হার ভিন্ন হতে পারে।
বার্ষিক হিসাবে সব শহর লোকসানে নয়
সাম্প্রতিক পতন সত্ত্বেও ব্রিসবেন, পার্থ ও ডারউইনে বাড়ির মূল্য এক বছর আগের তুলনায় এখনো ১০ শতাংশের বেশি। পার্থে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি ১৫.৬ শতাংশ এবং ডারউইনে ১৪.৬ শতাংশ।
শীতের তিন মাসে আট রাজধানীর মধ্যে শুধু ডারউইনে মূল্য বেড়েছে। অন্যদিকে সিডনি ও মেলবোর্নে মাসিক ও বার্ষিক—উভয় হিসাবেই পতন রেকর্ড করা হয়েছে।
কেন কমছে বাড়ির মূল্য?
Cotality কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে—
● উচ্চ মর্টগেজ সুদ এবং ঋণ নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া
● জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি
● ক্রেতাদের দুর্বল আস্থা
● প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়া
● বাজারে বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তির সরবরাহ বৃদ্ধি
● ভবিষ্যতে আরও সুদ বৃদ্ধির আশঙ্কা
মূল্য কিছুটা কমলেও উচ্চ সুদের কারণে মাসিক ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে। ফলে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য সামগ্রিক ক্রয়ক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি।
Cotality সতর্ক করেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এবং সুদ আরও বাড়লে বসন্তকালেও আবাসনবাজারে নিম্নমুখী চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে নতুন বাড়ির সীমিত সরবরাহ, তুলনামূলক কম বেকারত্ব এবং প্রথম বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সরকারি সহায়তা বড় ধরনের ধস ঠেকাতে পারে।












































আপনার মতামত লিখুন :