গুঞ্জনের জবাব দিলেন মার্তিনেজ, দুটি বিশ্বকাপ জিতলেই অবসর


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ন
গুঞ্জনের জবাব দিলেন মার্তিনেজ, দুটি বিশ্বকাপ জিতলেই অবসর

ক্যারিয়ারের খানিকটা শেষ অংশে এসে যখন জাতীয় দলের দরজা খুলেছিল, অনেকেই হয়তো ভাবেননি এই মানুষটাই হবেন আর্জেন্টিনার ভাগ্য বদলে দেওয়া একজন। অথচ আকাশী-সাদা জার্সিতে অভিষেকের পর এমিলিয়ানো মার্তিনেজ যা করেছেন, তা এখন ফুটবল রূপকথার অংশ। আলবিসেলেস্তাদের দীর্ঘ ট্রফি খরা কাটানোর অন্যতম নায়ক তিনি; কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ফাইনালের সেই মহাকাব্যিক সেভ তো ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণক্ষরে লেখা থাকবে আজীবন।

স্বপ্নের মতো এমন ক্যারিয়ারে নামের পাশে যদি আরও একটি বিশ্বকাপ ট্রফি যোগ হয়, তবে কী করবেন ‘দিবু’? বুটজোড়া তুলে রাখবেন? সতীর্থদের সঙ্গে এক পুরনো আড্ডার সূত্র ধরে চাউর হওয়া সেই অবসরের গুঞ্জন অবশ্য চেনা চওড়া হাসিতেই উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার এই ‘বাজপাখি’। আগামী রোববারের মহারণের আগে আপাতত অবসরের কোনো ভাবনা মাথায় আনতে চান না মার্তিনেস; বরং সব ধোঁয়াশা একপাশে সরিয়ে তাঁর পুরো ফোকাস এখন কেবলই ‘ব্যাক-টু-ব্যাক’ বিশ্বজয়ের সোনালী ট্রফিতে।

কয়েক বছর আগে সতীর্থদের সঙ্গে এক আড্ডায় মার্তিনেস ভাইরাল হওয়া একটি মন্তব্য করেছিলেন মার্তিনেজ। সংবাদ সম্মেলনে এই অবসরের প্রসঙ্গটি উঠতেই তা হেসেই উড়িয়ে দেন তিনি, ‘হ্যাঁ, এএফএ ট্রেইনিং গ্রাউন্ডে নিকোর (নিকোলাস তাগলিয়াফিকো) সঙ্গে ওই কথাটি বলেছিলাম… তবে অবসরের আগে তো আমাদের ফাইনালটা জিততে হবে, আমার পুরো ফোকাস এখন শুধু ওটাতেই। এই দলটা নিয়ে আমরা বছরের পর বছর ধরে নিজেদের উন্নত করেছি। আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তা ভেবে মাঝেমধ্যে একা একাই আমার চোখ দিয়ে জল চলে আসে। তবে সামনে আমাদের উপভোগ করার মতো আরও আনন্দের মুহূর্ত আসা বাকি আছে।’

কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের আসরকে অনেক বেশি উপভোগ করছেন জানিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই গোলকিপার বলেন, ‘গত বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের আসরটা আমি অনেক বেশি উপভোগ করছি। কাতারে সৌদি আরবের কাছে হারের পর আমি মানসিকভাবে অনেক ভুগেছিলাম। সেবার খুব বেশি শটের মুখোমুখি হতে হয়নি আমাকে, অথচ গোল হজম করতে হয়েছিল। কেবল পেনাল্টি শুটআউটেই আমি নিজের আসল ভূমিকাটা রাখতে পেরেছিলাম। তবে এবার আমি পায়েও অনেক ভালো খেলছি। রোববারের ফাইনালে যখন আমি মাঠে নামব, আপনারা আমার মুখে চেনা হাসিটাই দেখতে পাবেন।

ম্যাচের যেকোনো বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য শক্তি নিয়ে মার্তিনেজ নিজের চিরাচরিত লড়াকু মানসিকতার কথা তুলে ধরেন, ‘প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে একটা বা দুটো গোল করতেই পারে, কিন্তু পরের মুভেই আমি আবার সেই আগের চেনা “দিবু” হয়ে ফিরি। মাঠের কোনো চাপই আমাকে কাবু করতে পারে না। আমি যখন গ্লাভস জোড়া হাতে পরি, তখন নিজের ওপর শতভাগ আত্মবিশ্বাস রাখি। ম্যাচ যেমনই হোক না কেন, আমার ভেতর মার দেল প্লাতার ‘ব্যারিও জার্দিন’ মহল্লার সেই পাড়ার ফুটবলারের স্পিরিটটা সবসময় তাজা থাকে, যা আমাকে চিরকাল একই দিবু করে রাখে।’

ফাইনালের প্রতিপক্ষ স্পেনকে নিয়ে মার্তিনেজের বিশ্লেষণটা এমন, ‘দারুণ একটা দল। প্রিমিয়ার লিগে ওদের অনেক ফুটবলার খেলে, তাই ওদের সম্পর্কে আমার বেশ ভালো ধারণা আছে। স্পেনের কোচও দুর্দান্ত। এই দলটা কেবল লামিন ইয়ামালকে ভর করে চলেনা, ওদের পুরো গ্রুপটাই দারুণ এবং যোগ্যতা আছে বলেই ওরা আজ ফাইনালে। ওদের যেমন কিছু শক্তির জায়গা আছে, আমাদেরও আছে। আশা করি, এটি এমন একটি ম্যাচ হবে যা ফুটবলপ্রেমীরা বহুদিন মনে রাখবেন।’

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: