

AusBangla News Desk: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসান শওকতের কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদারকে বিল প্রদান এবং নিজের ও স্বজনদের নামে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রকাশ করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম।
অভিযোগগুলো তদন্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে। ইইডির প্রধান প্রকৌশলী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখার উপসচিব কমিটির অপর দুই সদস্য। কমিটিকে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ঠিকাদারি কাজ ও বিল নিয়ে অভিযোগ
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল দেওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাস্তবে নির্মিত অংশের চেয়ে বেশি কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ ছাড় করা।
বিশেষভাবে ঢাকার শেরেবাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভবনটি আটতলা পর্যন্ত নির্মিত হলেও নবম ও দশম তলার কিছু কাজের বিল দেখানো হয়েছিল। তবে ইইডির নথির বরাত দিয়ে এনটিভি জানিয়েছে, নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত বিলের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং নবম ও দশম তলার জন্য কোনো বিল দেওয়া হয়নি।
স্ত্রী ও স্বজনদের নামে সম্পদের অভিযোগ
কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারি নথিতে গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ থাকা হাসান শওকতের স্ত্রীর নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৮৪ দশমিক ৩৩ শতক জমি, একটি রিসোর্ট এবং ঢাকায় বহুতল ভবন রয়েছে। আত্মীয়স্বজনের নামেও জমি, ফ্ল্যাট ও প্লট থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব সম্পত্তির অর্থের উৎস অবৈধ—এমন সিদ্ধান্ত কোনো আদালত বা তদন্তকারী সংস্থা এখনো প্রকাশ করেছে বলে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা, সম্পদের প্রকৃত মালিকানা এবং আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য নির্ধারণ করা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
হাসান শওকত কী বলছেন
হাসান শওকত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ভাইরাল ভিডিওতে দেখা অর্থ দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সরকারি কাজের পারফরম্যান্স গ্যারান্টির টাকা হস্তান্তরের অংশ। তিনি সেখানে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং কারও কাছ থেকে এক পয়সাও নেননি।
উপস্থিত দুই ঠিকাদারও বলেছেন, প্রায় ২৪ লাখ টাকার পারফরম্যান্স গ্যারান্টির মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দিয়েছিল। ভবিষ্যতে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করা ঠেকাতে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং হাসান শওকত ওই অর্থ নেননি বলে তাঁদের দাবি।
এখন অপেক্ষা নিরপেক্ষ তদন্তের
সরকারি প্রকল্পের পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর নথি ও সম্পত্তির দলিল—সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করলেই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি প্রভাব খাটিয়ে গুরুতর অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগও থাকা উচিত নয়।
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশ্য উৎসে তদন্ত কমিটির কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও পরিষ্কারভাবে জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি।














































আপনার মতামত লিখুন :