১১,৫০০ মাইল রেঞ্জের ‘ওয়াইল্ডফায়ার’ ড্রোন উন্মোচন, বহন করতে পারবে অ্যান্টি-শিপ মিসাইল


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২২, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ন
১১,৫০০ মাইল রেঞ্জের ‘ওয়াইল্ডফায়ার’ ড্রোন উন্মোচন, বহন করতে পারবে অ্যান্টি-শিপ মিসাইল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠান General Atomics Aeronautical Systems (GA-ASI) নতুন প্রজন্মের দীর্ঘপাল্লার মানববিহীন আকাশযান ‘Wildfire’-এর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। প্রায় ১০,০০০ নটিক্যাল মাইল বা ১১,৫০০ মাইল (প্রায় ১৮,৫০০ কিলোমিটার) পাল্লার এই ড্রোন ভবিষ্যতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বহুল ব্যবহৃত MQ-9 Reaper-এর পরবর্তী প্রজন্মের বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

MQ-9 Reaper-এর উত্তরসূরি?

প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা The War Zone জানিয়েছে, Wildfire একটি নতুন Medium-Altitude, Long-Endurance (MALE) ড্রোন ধারণা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এমন একটি নতুন প্রজন্মের প্ল্যাটফর্ম খুঁজছে, যা MQ-9 Reaper-এর তুলনায় আরও মডুলার, তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদনযোগ্য এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

Wildfire-এর বিশাল পাল্লা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রায় ১১,৫০০ মাইল রেঞ্জের সম্ভাব্য সক্ষমতা থাকলে এটি দূরবর্তী ঘাঁটি থেকেও দীর্ঘপাল্লার অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিশাল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এ ধরনের সক্ষমতা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বহন করতে পারে অ্যান্টি-শিপ মিসাইল

Wildfire-এর সম্ভাব্য অস্ত্র বহন সক্ষমতাও আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ড্রোনটির বিভিন্ন কনফিগারেশনের মধ্যে Long Range Anti-Ship Missile (LRASM)-এর মতো দূরপাল্লার অস্ত্র বহনের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।

এদিকে General Atomics ইতোমধ্যে তার MQ-9B প্ল্যাটফর্মে দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্র যুক্ত করার কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্যমতে, সম্ভাব্য অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে JASSM, LRASM এবং Joint Strike Missile (JSM)। অন্তত একটি নতুন দূরপাল্লার অস্ত্র ২০২৬ সালেই উড্ডয়ন পরীক্ষায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের নতুন ভূমিকা

বর্তমান MQ-9 Reaper দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্তার বড় ও ব্যয়বহুল ড্রোনগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

Wildfire-এর ধারণায় তাই শুধু দীর্ঘ পাল্লা নয়, বরং কম খরচ, মডুলার নকশা এবং বেশি সংখ্যায় উৎপাদনের সক্ষমতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেও মোতায়েন করা যাবে।

ইন্দো-প্যাসিফিকে কৌশলগত গুরুত্ব

দীর্ঘপাল্লার ড্রোনের সঙ্গে অ্যান্টি-শিপ মিসাইল যুক্ত হলে ভবিষ্যতে সামুদ্রিক যুদ্ধের কৌশলেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। General Atomics নিজেই জানিয়েছে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল জলসীমায় দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সক্ষমতার চাহিদা বাড়ছে।

তবে Wildfire এখনো একটি উন্নয়নাধীন ধারণা। এর চূড়ান্ত নকশা, অস্ত্র কনফিগারেশন, উৎপাদন সংখ্যা কিংবা কবে এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল বহরে যুক্ত হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

Wildfire প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘপাল্লার নজরদারি, সামুদ্রিক অভিযান এবং দূর থেকে নির্ভুল হামলার ক্ষেত্রে মানববিহীন যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা নতুন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: