উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াল অস্ট্রেলিয়া ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’—পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সতর্কতা ক্যানবেরার


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৯, ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াল অস্ট্রেলিয়া  ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’—পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সতর্কতা ক্যানবেরার

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ক্যানবেরা এখনো ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’ বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লস।

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমির সঙ্গে ক্যানবেরায় আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্লস বলেন, “উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরা ধারাবাহিকভাবে এ অবস্থান জানিয়ে আসছি।”

সম্প্রতি ট্রাম্প পেন্টাগনকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়ায় মার্কিন অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দেন। মহড়াটিকে ব্যয়বহুল ও উত্তর কোরিয়ার প্রতি বৈরী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ থাকার কথা তুলে ধরেন এবং পিয়ংইয়ংকে তার বর্তমান মেয়াদে ‘হুমকিহীন ও শ্রদ্ধাশীল’ বলে বর্ণনা করেন।

তবে অস্ট্রেলিয়া মনে করছে, উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতা এখনো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ। গত সপ্তাহে পিয়ংইয়ং জাপান অভিমুখে সাগরে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। উত্তর কোরিয়া অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়াকে ‘আক্রমণের মহড়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

রিচার্ড মার্লস বলেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে।

ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তে দক্ষিণ কোরিয়াতেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তিশালী সামরিক জোট বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় সংলাপ শুরুর প্রচেষ্টা হতে পারে। তবে মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই সামরিক মহড়া সীমিত করার পদক্ষেপ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: