

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক Whyalla Steelworks-এর পুরোনো ব্লাস্ট ফার্নেস স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ শতাধিক কর্মী চাকরি হারাতে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি প্রায় ১০০ জন শ্রম-ভাড়াভিত্তিক কর্মীর কাজও শেষ হয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্তকে Whyalla শহরসহ অস্ট্রেলিয়ার শিল্প ও উৎপাদন খাতের জন্য বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্টিলওয়ার্কসটির প্রশাসক KordaMentha শ্রমিকদের জানিয়েছে, সরাসরি কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১,৭০০ থেকে কমিয়ে ১,২০০ করা হবে। আরও প্রায় ২০০ বহিরাগত ঠিকাদারি কর্মীর ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত; তবে তাঁদের কয়েকজনকে অন্য প্রকল্পে পুনর্নিয়োগ করা হতে পারে।
পুনরায় চালুর সব চেষ্টা ব্যর্থ
প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো কয়লাচালিত ব্লাস্ট ফার্নেসটি গত এপ্রিল থেকে অচল রয়েছে। বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটি মেরামত করে এটি পুনরায় চালু করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কোনো উদ্যোগই সফল হয়নি।
এই ফার্নেসে লৌহ আকরিক গলিয়ে তরল কাঁচা লোহা উৎপাদন করা হতো, যা পরে প্রক্রিয়াজাত করে স্টিলে রূপান্তরিত করা হতো। ফার্নেসটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় Whyalla-তে লৌহ আকরিক থেকে সরাসরি প্রাথমিক স্টিল উৎপাদন আপাতত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
তবে স্টিলওয়ার্কসের সব কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। বিদ্যমান মজুত এবং বাইরে থেকে আনা আধা-প্রস্তুত স্টিল বা বিলেট ব্যবহার করে কিছু প্রক্রিয়াজাতকরণ ও স্টিলের আকার দেওয়ার কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো?
ব্লাস্ট ফার্নেসটির বয়স, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় আধুনিকায়নের অভাবকে বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পূর্ববর্তী মালিক GFG Alliance-এর অধীনে বছরের পর বছর পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
আর্থিক সংকটে পড়ার পর স্টিলওয়ার্কসটি বহিরাগত প্রশাসনের অধীনে যায়। এরপর থেকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ফেডারেল সরকার প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখা, কর্মীদের বেতন দেওয়া এবং নতুন ক্রেতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য ১০.২ মিলিয়ন ডলার
চাকরি হারানো কর্মীদের সহায়তায় দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও ফেডারেল সরকার যৌথভাবে ১০.২ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
এই অর্থ কর্মীদের নতুন চাকরি খুঁজে পেতে সহায়তা, পেশা পরিবর্তনের পরামর্শ, আর্থিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। কর্মীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে পুনর্নিয়োগ, স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ অথবা বাধ্যতামূলক ছাঁটাই—পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
এর আগে Whyalla Steelworks রক্ষা, আধুনিকায়ন এবং নতুন মালিকের কাছে হস্তান্তরের জন্য রাজ্য ও ফেডারেল সরকার সম্মিলিতভাবে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলারের বৃহত্তর সহায়তা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল।
Whyalla শহরের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা
Whyalla শহরের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে স্টিলওয়ার্কসের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যক্ষ কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবহন, সরবরাহ, আবাসন, দোকান, রেস্তোরাঁ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় হাজারো মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে যুক্ত।
একসঙ্গে এত কর্মী চাকরি হারালে স্থানীয় বাড়ির বাজার, ব্যবসা ও পারিবারিক আয়ের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হতে পারে। দক্ষ কর্মীরা কাজের সন্ধানে অন্য শহরে চলে গেলে Whyalla-র জনসংখ্যা এবং সামাজিক কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন মালিক ও আধুনিক প্রযুক্তির অপেক্ষা
স্টিলওয়ার্কসটি কেনার প্রতিযোগিতায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান Jindal Steel International এবং অস্ট্রেলিয়ার M Resources রয়েছে। এ ছাড়া BlueScope Steel-এর চূড়ান্ত প্রস্তাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া সরকার চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায়।
সম্ভাব্য নতুন মালিকের অধীনে পুরোনো কয়লাচালিত ব্লাস্ট ফার্নেসের পরিবর্তে আধুনিক ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে কম দূষণকারী এবং আধুনিক স্টিল উৎপাদনের জন্য অধিক কার্যকর বলে বিবেচিত।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার Peter Malinauskas বলেছেন, ব্লাস্ট ফার্নেস বন্ধ হলেও Whyalla-তে দীর্ঘমেয়াদি স্টিল উৎপাদন ধরে রাখার পরিকল্পনা অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন মালিক নির্বাচন, আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং পূর্ণ উৎপাদন পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত শহরটির শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সামনে কঠিন অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
Whyalla Steelworks-এর বর্তমান সংকট শুধু একটি কারখানার ঘটনা নয়—এটি অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব স্টিল উৎপাদন সক্ষমতা, শিল্পনিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কর্মসংস্থান রক্ষার বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।












































আপনার মতামত লিখুন :