

মার্কিন হামলার জবাবে ভবিষ্যতে আরও কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো আগ্রাসন হলে তার জবাব হবে আরও দ্রুত, তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বক্তব্যে কালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে যে ‘সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে’। তেহরানের এই হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড—সেন্টকমের দাবি, ইরান একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি এবং একটি ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে উভয় যুদ্ধজাহাজই হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস—আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। উভয় পক্ষের এসব পাল্টাপাল্টি দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, খার্গ দ্বীপ ও জাস্ক উপকূলের কাছে দুটি জাহাজ অচল এবং ওমান উপসাগরে আরেকটি জাহাজ সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরান আরও সতর্ক করেছে, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন তেল-গ্যাস স্থাপনা এবং নৌসম্পদ পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে নতুন একটি নিয়ন্ত্রিত নৌ-অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও জানিয়েছে তেহরান। গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত, কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও তেল রপ্তানিতে বাধার কারণে ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে। তবে তেহরান বলছে, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আনা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।












































আপনার মতামত লিখুন :