

ভারতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ‘জেনজি’ আন্দোলন রাজধানী দিল্লি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি কঠোরতার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যোগ দিচ্ছেন। একই সময়ে বিদেশে বসবাসরত ভারতীয়দের মধ্যেও এ আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশের কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে।
দিল্লির বাইরে উত্তর প্রদেশের লখনৌ, বিহারের পাটনা, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ, গুজরাটের সুরাট এবং মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও পুলিশি বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এ আন্দোলনের প্রভাব দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও পৌঁছেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে বিক্ষোভ হয়েছে। লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার, জার্মানির বার্লিন এবং নেদারল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডেও একই ধরনের কর্মসূচির প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বিরোধী দল এবং সিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাতে সংকট নিরসনের কোনো অগ্রগতি হয়নি। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
এদিকে আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত সংঘর্ষ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরার ভিডিওসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লি প্রশাসন ও পুলিশকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, কোনো সমাবেশ বেআইনি হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনসম্মত উপায়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে সরকারের দাবি, আন্দোলনের সময় কিছু বিক্ষোভকারী সরকারি যানবাহনে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে আটক করে পুলিশ। এরপর থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, ফলে নগরবাসীর চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান আন্দোলন, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং আদালতের হস্তক্ষেপ—সব মিলিয়ে ভারতের পরিস্থিতি নতুন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সরকারের সিদ্ধান্ত ও আন্দোলনকারীদের পরবর্তী কর্মসূচির ওপরই নির্ভর করছে সংকট কোন দিকে এগোয়।














































আপনার মতামত লিখুন :