সিডনির সাংবাদিকতা নিয়ে কিছু প্রাসঙ্গিক কথা


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
সিডনির সাংবাদিকতা নিয়ে কিছু প্রাসঙ্গিক কথা

আতাউর রহমান, সিডনি: সিডনিতে প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকতার পরিসর গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। এই অগ্রযাত্রার পেছনে রয়েছেন কিছু অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক, যাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, পেশাগত নীতিবোধ এবং ধারাবাহিক অবদান এই অঙ্গনকে একটি দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে।

বিশদ বাংলার সম্পাদক মোহাম্মাদ আবদুল মতিন সেই অভিজ্ঞদের অন্যতম, যিনি আশির দশক থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। দৈনিক আজাদ দিয়ে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে দি ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা তাকে পেশাগতভাবে সমৃদ্ধ করেছে। তার মতো সিনিয়রদের হাত ধরেই সিডনিতে নতুন প্রজন্মের অনেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

২০১২ সালে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস-এর তৎকালীন সভাপতি মোবারক হোসেনের অনুরোধে এক নতুন আগ্রহী ব্যক্তিকে সাংবাদিকতায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বিদেশ বাংলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয় এবং ধাপে ধাপে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। শুরুতে অভিজ্ঞতার অভাব থাকায় সিনিয়রদের সহায়তায় কাজ শেখার সুযোগ তৈরি হয়, যা প্রবাসী সাংবাদিকতায় একটি স্বাভাবিক ও প্রচলিত প্রক্রিয়া।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে, পরবর্তীতে সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও নেতিবাচক প্রচারণা সামনে এসেছে, যা এই পেশার মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সাংবাদিকতা কেবল খবর প্রকাশের বিষয় নয়; এটি বিশ্বাস, নৈতিকতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার উপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি পেশা। যাদের কাছ থেকে শেখা, তাদের প্রতিই অসম্মান বা অপপ্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিদেশ বাংলা বর্তমানে প্রবাসীদের মধ্যে একটি বহুল প্রচারিত ও জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে অনেকেই নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করেছেন এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছেন। কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা অসন্তোষের কারণে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানো পেশাগত দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে না।

সিডনির প্রবাসী সাংবাদিকতার পরিবেশকে সুস্থ, ইতিবাচক ও গঠনমূলক রাখতে হলে সকলের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা যেন শালীনতা ও পেশাগত নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কারণ শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হলো সত্য তুলে ধরা এবং সমাজকে সংযুক্ত রাখা, বিভক্ত করা নয়।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: