যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৫, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর

যুক্তরাজ্যকে কটাক্ষ করে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যকে নিয়ে তাঁর এমন মন্তব্যের পর নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সম্প্রচারিত ইসরায়েলি পডকাস্ট ‘মেলেখ ব্লিটজার হাইম’-এ অংশ নিয়ে নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন।

গাজা যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের সমালোচনা করতে গিয়ে প্রসঙ্গটি তোলেন তিনি। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েলপন্থী সংবাদ পরিবেশনের জন্য ব্রিটিশ লেখক র‍্যান্ডলফ চার্চিলের প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান ব্রিটেনে এ ধরনের অবস্থান খুঁজে পাওয়া কঠিন। এ সময় ব্যঙ্গাত্মকভাবে দেশটিকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পরে মার্কিন রাজনীতিক জেডি ভ্যান্সের ২০২২ সালের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু বলেন, কেউ একজন বলেছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রথম ইসলামী প্রজাতন্ত্র হবে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’। তবে ইসরায়েল নিশ্চিত করবে, ইরানে এমন কিছু যেন না ঘটে, এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠন। তারা এ মন্তব্যকে বিদ্বেষপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছে।

‘মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজম’-এর নেতা রাব্বি চার্লি বাগিনস্কি ও রাব্বি জশ লেভ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সামাজিক বিভাজন ও বর্ণবাদের সময়ে এ ধরনের বিপজ্জনক ভাষা ব্যবহার দায়িত্বহীনতার পরিচয়। তাঁরা আরও বলেন, নেতানিয়াহু ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং তাঁর বক্তব্য তাঁদের মতামত নয়।

ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ে। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত, কিছু অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স বাতিল এবং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ফ্রান্স ও কানাডার মতো কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধে অস্ত্র ও বাণিজ্যসংক্রান্ত আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: