মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর আহ্বান শি জিনপিংয়ের


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ন
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর আহ্বান শি জিনপিংয়ের

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুনভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যে মিসর সফরে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

বুধবার কায়রোতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠকে শি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রক হতে হবে। শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

চার বছরের মধ্যে এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর। একই সঙ্গে এক দশকের মধ্যে মিসরে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। এমন এক সময়ে তিনি কায়রো গেলেন, যখন ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে, আঞ্চলিক অর্থনীতি চাপে পড়ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। Reuters⁠

আন্তর্জাতিক নৌপথ রক্ষায় সহযোগিতার প্রস্তাব

শি জিনপিং বলেন, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চীন।

চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং এশিয়া–ইউরোপ বাণিজ্যের জন্য এই দুটি নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শি ও আল-সিসি ইরান যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান। একটি সমন্বিত চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত বন্ধ করা এবং নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধের ওপর জোর দেন দুই নেতা।

চীন–মিসর সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে

বৈঠকে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী সমন্বয় বৃদ্ধির পাশাপাশি তথ্যকেন্দ্র, সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে চীনা ইউয়ান এবং মিসরীয় পাউন্ডের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মিসরীয় কর্তৃপক্ষ সুয়েজ খাল এলাকায় চীনের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত শিল্পাঞ্চলের তৃতীয় ধাপ সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সেখানে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চীনা বিনিয়োগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হয়েও চীনের দিকে ঝুঁকছে মিসর

মিসর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার এবং প্রতিবছর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তা পায়। তবে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক দ্রুত সম্প্রসারণ করছে।

মিসরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি এই নীতিকে আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে দেশের “কৌশলগত ভারসাম্য” রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

চীনের কাছে মিসরের গুরুত্বও বহুমাত্রিক। সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ, ১১ কোটির বেশি মানুষের বিশাল বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার রাজনীতিতে প্রভাব—সব মিলিয়ে দেশটি বেইজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়া ‘ঈগলস অব সিভিলাইজেশন’ চীন–মিসর প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গভীরতার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের কায়রো সফর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাবের বিপরীতে চীনকে বিকল্প অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। তবে বেইজিং তার অর্থনৈতিক প্রভাবকে স্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভূমিকায় রূপ দিতে পারবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: