প্রথম UNGA ভাষণের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন বাংলাদেশের নতুন অগ্রাধিকার


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ন
প্রথম UNGA ভাষণের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন বাংলাদেশের নতুন অগ্রাধিকার

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ; বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে এটিই হবে তাঁর প্রথম ভাষণ।

সোমবার ভোরে তিনি নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরকালে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এ সফর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি, জাতীয় অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

রোহিঙ্গা সংকট থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে

বাংলাদেশের জন্য এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চাইবে। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বিশেষ সাইড ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে আসা এবং প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সমর্থন পুনরায় জোরদার করাই হবে বাংলাদেশের অন্যতম কূটনৈতিক লক্ষ্য।

জলবায়ু ও উন্নয়ন অর্থায়ন

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং অভিযোজন প্রযুক্তির বিষয়ে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে আরও কার্যকর সহযোগিতা চাইতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বর্তমান আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নকে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করেছিলেন। জাতিসংঘের ভাষণেও জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং সহজ শর্তে অর্থ ও প্রযুক্তি সরবরাহের দাবি গুরুত্ব পেতে পারে।

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তি, জলবায়ু সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

তবে কার কার সঙ্গে চূড়ান্তভাবে বৈঠক হবে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্ক

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুশাসন, শান্তি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সংকট নিয়ে বিশ্বনেতারা আলোচনা করবেন।

বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সফর

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম UNGA ভাষণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা বোঝার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বমঞ্চে দেশের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং দায়িত্বশীল পররাষ্ট্রনীতির একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

জাতিসংঘের মঞ্চে তাঁর বক্তব্য শুধু সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান নয়—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আগামী দিনের কূটনৈতিক পরিচয় ও অগ্রাধিকারেরও প্রতিফলন ঘটাবে।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: