
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মজুদ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, তবে অ্যান্থনি আলবানিজ সতর্ক করেছেন যে সংকটটি এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
সরকারের সাপ্তাহিক জ্বালানি বিষয়ক হালনাগাদ তথ্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, মোট ৩২০ কোটি (৩.২ বিলিয়ন) লিটার জ্বালানি বহনকারী ৫৫টি জাহাজ
“আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানোর জন্য নির্ধারিত” রয়েছে।
শনিবার তিনি বলেন, “এর অর্থ হলো, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় সব মিলিয়ে সাড়ে ৬০০ কোটি (৬.৫ বিলিয়ন) লিটার জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যা এই সংঘাত শুরুর সময়ের তুলনায় বেশি।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “জ্বালানি মজুদ ব্যবস্থা চালুর পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এটিই জ্বালানির সর্বোচ্চ পরিমাণ—সর্বকালের সর্বোচ্চ।”
“জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার ওপর অস্ট্রেলিয়াবাসীরা আস্থা রাখতে পারেন।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত অব্যাহত থাকায় জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলোও চলতে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, “আমি আবারও বলছি, আমরা এখনও ‘লেভেল টু’ বা দ্বিতীয় সতর্কতার স্তরে রয়েছি; তাই অস্ট্রেলিয়াবাসীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ—
আপনার যতটুকু জ্বালানি প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই নিন, এর চেয়ে বেশিও নয়, আবার কমও নয়।” অস্ট্রেলিয়ায় ৩২০ কোটি লিটার জ্বালানি পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর ফলে অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সমস্যা ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দেয়।
ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়, যা পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা দেয় এবং
অস্ট্রেলিয়াও এর ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এরপর থেকে আলবানিজ সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ,
জ্বালানির ওপর আবগারি শুল্ক সাময়িকভাবে কমানো, অতিরিক্ত জ্বালানি চালান বা কার্গোর নিশ্চয়তা প্রদানে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মানদণ্ড শিথিল করা।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ৪৬ দিনের পেট্রোল, ৩৯ দিনের ডিজেল এবং ৩৪ দিনের জেট ফুয়েল বা উড়োজাহাজের জ্বালানি মজুদ রয়েছে।
জুন মাসে জ্বালানি নিয়ে ৯১টি জাহাজ আসার পর, জুলাই মাসে এখন পর্যন্ত ৪৭টি জাহাজ অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছে।
৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) লিটারেরও বেশি জ্বালানি নিয়ে ৫৫টি জাহাজ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার পথে রয়েছে।
৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) লিটারেরও বেশি জ্বালানি নিয়ে ৫৫টি জাহাজ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার পথে রয়েছে।
মিঃ আলবানিজ বলেন, “এটা বলাই বাহুল্য যে এই সংঘাতের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি; আমরা বিষয়গুলোর ওপর নজর রাখা
এবং দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখা অব্যাহত রাখব।”
যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের আশপাশে ওঠানামা করেছে।
ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৩.৩০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
মার্চ মাসে প্রবর্তিত সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে জ্বালানি তেলের করের হার পুনরায় প্রতি লিটারে ৫২.৬ সেন্টে ফিরে আসার ঠিক দুই সপ্তাহ আগে দামের এই উল্লম্ফন দেখা দিল।










































আপনার মতামত লিখুন :