

ইরানের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলি তাঁর পছন্দ না হলে ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী দিনে বুধবার ট্রাম্প বলেন, এটি মূলত একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক। যদি এর চূড়ান্ত রূপ আমার পছন্দ না হয়, তবে আমরা তাদের ওপর আবারও হামলা চালাব এবং বোমা ফেলব।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন একসময়ে এল, যখন দুপক্ষের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত করতে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক সইয়ের খবর পাওয়া গেছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই চুক্তিকে এখনো চূড়ান্ত বলতে নারাজ।
ফ্রান্সের এভিয়াঁ লে বেঁ শহরে গত সোমবার শুরু হওয়া জি–৭ সম্মেলনটি আজ বুধবার শেষ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের রাষ্ট্রপ্রধানরা এই বৈঠকে অংশ নেন। সম্মেলনে নেতারা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
জি-৭ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে, যাতে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।
সম্মেলনে ট্রাম্প তাঁর ইরান কৌশলের বিভিন্ন দিক মিত্রদেশগুলোর সামনে তুলে ধরলেও ইউরোপীয় অংশীদাররা ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সরাসরি যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সমর্থন করেনি। তারা মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা এই চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার পর সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে একটি বিশেষ জোট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকটির বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, এই চুক্তির আওতায় গত এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে, যেন এই সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিকমিটি গঠন করে আলোচনা চালানো যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, সমঝোতার এই খসড়া নথিটি গত রোববার ডিজিটাল পদ্ধতিতে সই হয়েছে। এতে আমেরিকার পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্বাক্ষর করেন। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সরাসরি উপস্থিত হয়ে এই চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করার কথা রয়েছে দুই পক্ষের।
অবশ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়া নিয়ে এখনো বেশ কিছু জটিলতা ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করেছে কি না কিংবা তাদের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।












































আপনার মতামত লিখুন :