প্রশান্ত মহাসাগরে ফের মার্কিন হামলা, নিহত ২


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২৬, ৭:২৪ পূর্বাহ্ন
প্রশান্ত মহাসাগরে ফের মার্কিন হামলা, নিহত ২

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারবিরোধী অভিযানে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবারের (৮ মে) এই অভিযানে একটি নৌযান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যাতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। খবর এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, একটি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। লক্ষ্যবস্তু হওয়া নৌযানটি একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ পরিচালনা করছিল এবং এটি পরিচিত মাদক পাচার রুট দিয়ে চলাচল করছিল।

সাউথকমের পক্ষ থেকে একটি সাদা-কালো ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখা যায়— একটি ছোট নৌকা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে এবং আঘাতের পর বড় ধরনের বিস্ফোরণে সেটি ধ্বংস হয়ে যায়।

এ হামলায় ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত হন এবং একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। নিখোঁজদের সন্ধানে বা পরবর্তী উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য ইউএস কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের অভিযান চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, মাদক ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী এই ধারাবাহিক অভিযানগুলোতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই অঞ্চল দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে মাদকের বড় চালানগুলো প্রবাহিত হয়, যা বন্ধ করতে তাদের ‘সাউদার্ন কমান্ড’ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে কথিত মাদক চোরাচালানকারী নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তারা লাতিন আমেরিকা ভিত্তিক তথাকথিত ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধে রয়েছে।

তবে যেসব নৌযানে হামলা চালানো হচ্ছে, সেগুলো সত্যিই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত কি-না এমন কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে অভিযানের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুক্রবারের হামলাটি এক মাসের মধ্যে নবম হামলা।

আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল হতে পারে। কারণ এতে এমন সব বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নয়।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: