দেশবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৭, ২০২৬, ৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
দেশবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আজীবন লড়াইকারী এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপসহীন পথিকৃৎ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা।

শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় তারা বলেন, দেশের জন্য অসামান্য ত্যাগের কারণে দেশবাসী তাকে চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।

বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এ শোকসভায় প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিএনপি বা বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের কোনো সদস্য বক্তব্য রাখেননি। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার সহধর্মিণী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে শ্রোতাদের সারিতে উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে শোকগাঁথা পাঠ করেন নাগরিক শোকসভার সমন্বয়ক সালেহ উদ্দিন। এতে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, লেখক, গবেষক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিরা অংশ নেন।

নাগরিক শোকসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যখন ভুয়া মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন, তখন তার বিচার ছিল অদ্ভুত ও জঘন্য। সময়ের ব্যবধানে এ নেত্রী মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন।

জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান বেগম খালেদা জিয়ার শোককে শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে সবাইকে আসন্ন নির্বাচনে উৎসবমুখরভাবে অংশগ্রহণের অনুরোধ করেন।

দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া যেভাবে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা ইতিহাসে বিরল। তিনি কোনোদিন মাথা নত করেননি বলেই মানুষের অজস্র ভালোবাসা পেয়েছেন।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম গণতন্ত্রে বেগম জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, বিগত সরকারের নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি ধ্বংস নয় বরং ভালোবাসা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার বাণী দিয়েছেন। ব্যবসায়ী সিমিন রহমান দেশের অর্থনীতিতে তার নৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, দেশের স্বার্থে আপসহীন থাকার কারণেই মানুষ তাকে অনন্তকাল স্মরণ করবে।

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন তাকে একটি রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে অভিহিত করেন এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি দেওয়ার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাসসহ দলের শীর্ষ নেতারা এবং শরিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও মনির হায়দারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ শোকসভায় অংশ নেন।

ইএইচ

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: