জঙ্গি সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যা: পলাতক হাসিনাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ন
জঙ্গি সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যা: পলাতক হাসিনাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

২০১৬ সালে কল্যাণপুরে ‘জাহাজ বাড়ি’তে জঙ্গি নাম দিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগে সাবেক স্বৈরাচার হাসিনাসহ পলাতক ৬ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।

রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এতে শেখ হাসিনা ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন-স্বৈরাচার দোসর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বৈরাচার দোসর সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, স্বৈরাচার দোসর সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান, স্বৈরাচার দোসর সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

মামলায় পলাতক আসামিরা হলেন- স্বৈরাচার দোসর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বৈরাচার দোসর ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, স্বৈরাচার দোসর তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, স্বৈরাচার দোসর ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জানুয়ারি এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়ি নামের একটি বাড়িতে ৯ তরুণকে আটকে রাখা হয়। এরপর সোয়াত ও সিটিটিসি গিয়ে তাদের বাসার মধ্যে গুলি করে হত্যা করে। জঙ্গি হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রচার করে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে পুলিশের এই কর্মকর্তারা জঙ্গি নাটক করেছিলেন। এই ৯ তরুণকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে বহু আগে। কেউ কেউ ডিবি হেফাজতে ছিলেন দুই-তিন মাস ধরে। সেখান থেকে তাঁদের ধরে নিয়ে রাতে ওই বাসায় জড়ো করা হয়। পরে রাতের বেলা ব্লক রেইডের কথা বলে সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবাই হাজির হন। সেই লোকদের গুলি করে হত্যা করে জঙ্গি হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রচার করেন। সে সময় জঙ্গি নাটক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করার জন্য ইসলামিক ভাবধারার মানুষদের জঙ্গি নাম দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: