ইরানে ফের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : মে ২৬, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ন
ইরানে ফের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রঘাঁটি ও মাইন পেতে রাখার চেষ্টা করা নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষার্থে’ এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে একই সময়ে ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও দ্রুত কোনও চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং মাইন পেতে রাখার চেষ্টা করা নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলা ‘আত্মরক্ষার্থে’ চালানো হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য ছিল ‘ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা দেয়া’।

সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মার্কিন বাহিনী সংযম বজায় রেখে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। অবশ্য এই হামলার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে সংঘাত অবসানের কোনও চুক্তি ‘এখনই হতে যাচ্ছে না’।

হকিন্স জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের কাছে একটি এলাকা। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় ইরানের একটি নৌঘাঁটি রয়েছে এবং তা হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত।

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর স্থানীয় কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেছেন। তবে সর্বশেষ মার্কিন হামলার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।

এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তাও এখনও স্পষ্ট নয়। গত সপ্তাহান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, দুই পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে পরে তিনি জানান, আলোচকদের তিনি ‘তাড়াহুড়া করে’ কোনও চুক্তি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বলেছিলেন, সোমবারের মধ্যেই একটি সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু এর জবাবে ইসমাইল বাকাই বলেন, ‘এটা ঠিক যে আলোচনার অনেক বিষয়ে আমরা একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে খুব দ্রুত কোনও চুক্তি সই হতে যাচ্ছে— এমন দাবি কেউ করতে পারে না।’

শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বড় ধরনের অগ্রগতির কথা কম গুরুত্ব দিলেও রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের প্রধান আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন। সেখানে তারা কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছেন।

গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে ইরান এখনও হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে উপসাগরীয় নৌ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: