

‘ইনকিলাব’ মূলত আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘বিপ্লব’—অর্থাৎ মঙ্গলার্থে পরিবর্তনে বিশ্বাস ধারণ করা। এটি প্রথম সাহিত্যে ব্যবহার করেন মুহাম্মদ ইকবাল। এই স্লোগানটি ১৯২১ সালে ইসলামী পণ্ডিত, উর্দু কবি ও ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়।
‘জিন্দাবাদ’ শব্দটি ফারসি উৎপত্তির; এর অর্থ ‘দীর্ঘজীবী হোক’। এটি কোনো ব্যক্তি বা দেশের নামের পরে বসানো হয়। সাধারণত বিজয় বা দেশপ্রেম প্রকাশের জন্য শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—মঙ্গল আগে, না দীর্ঘজীবিতা আগে? মঙ্গল না হলে দীর্ঘজীবিতার ভিত্তি কোথায়, আর তার প্রয়োজনীয়তাই বা কী? স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে যুগের পর যুগ ধরে যে ঘুষ, দুর্নীতি, স্বৈরাচারিতা ও ফ্যাসিবাদ লাগামহীনভাবে চলে আসছে, তার পরিবর্তন না হলে দীর্ঘজীবিতা কামনার যুক্তিসংগততা কী?


“বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না”—বিদ্যুৎমন্ত্রী। (প্রথমআলো ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬).
বাংলাকে ধারণ করার জন্য যদি আরবি শব্দ ব্যবহার না করা যায়, তবে ফারসি শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা কী?
তাছাড়া স্লোগান ব্যবহারকারী দলটি বাংলাদেশে একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল, যারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অধিষ্ঠিত। অন্য দলের স্লোগান নিয়ে গাত্রদাহ গণতন্ত্রের জন্য শুভকর নয়।
আরেক মন্ত্রীর ভাষ্য—“চাঁদাবাজি নয়, সমঝোতা। “পরিবহনে চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ বলে কি মন্ত্রী বৈধতা দিলেন”?
(প্রথম আলো: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬). সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।


আরেক নির্বাচিত নেতা ঝাড়ু হাতে নেমেছেন রাস্তা ঝাড়ু দিতে। এর অর্থ কী? তাহলে কি ঝাড়ুদার ওনাদের আসনে বসে ওনাদের কাজ করবেন? লোকদেখানো নাহয়ে কাজ ই যদি হয় তবে ওনার সাথে হাতা চামুন্ডাদের হাতে ঝাড়ু নাই কেন?
জনগণ আসলে দ্বিধায় পড়ে যায়—এরা আসলে কোন কাজে ভালো, নেতাগিরি না ঝাড়ুদারি? হতাশাজনক হলেও নির্মম সত্য হলো, এযাবৎ জনগণ নেতাদের কাছ থেকে কাজের চেয়ে ‘ঠোঁটসেবা’ ‘লোকদেখানো সেবা” ই বেশি পেয়েছে।
নেতাদের এহেন কথাবার্তা ও কার্যকলাপ দেখে জনগণের একটি বড় অংশ মনে করছে—দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে দেশ আবার কাদের হাতে পড়ল – বানরের হাতে বন্দুক নয় তো?






































আপনার মতামত লিখুন :