সংকটজয়ী রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : মার্চ ২৮, ২০২৬, ৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
সংকটজয়ী রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান

রুহেল হাশেমী: দীর্ঘ ১৮ বছরের দুঃশাসন, রাজনৈতিক অচলায়তন এবং অধিকারবঞ্চিত থাকার পর এক ঐতিহাসিক জনরায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি এবং দেশনায়ক তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর থেকেই তিনি এদেশের মানুষের ভাগ্যবদল এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দিনরাত নিরলস কাজ করে চলেছেন।

তারেক রহমানের এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। বিগত ১৭-১৮ বছরে দেশের নীতি কাঠামো, অর্থনীতি এবং জ্বালানি খাত যেভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, সেখান থেকে দেশকে টেনে তোলা ছিল হিমালয়সম চ্যালেঞ্জ। এর ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো আবির্ভূত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিধ্বংসী যুদ্ধ। যখন সারা বিশ্বের তেলের বাজার নড়বড়ে, উন্নত দেশগুলো যেখানে জ্বালানি সংকটে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক বিস্ময়কর স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।

‘সবার আগে দেশ’: ছুটির দিনেও বিরামহীন কাজ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকেই তারেক রহমানের মূলমন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে- ‘সবার আগে দেশ’। তিনি কেবল নামেই প্রধানমন্ত্রী নন, বরং জনগণের সেবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিগত দেড় দশকে এদেশের মানুষ যে সুশাসন ও নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছে, তা দূর করতে তিনি বদ্ধপরিকর। দলের হাইকমান্ড এবংঅভিজ্ঞ নেতাদের নিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত বৈঠক করছেন। এদেশের সাধারণ মানুষ যাতে ভালো থাকে, তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য এমনকি সরকারি ছুটির দিনেও প্রধানমন্ত্রী তার দফতরে অফিস করছেন। তার এই কর্মস্পৃহা এবং দেশপ্রেম দেখে খোদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অবাক। সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই কথা-’আমরা এমন একজন নেতা পেয়েছি যিনি নিজের আরাম-আয়েশের চেয়ে জনগণের কষ্টকে বড় করে দেখছেন।’

ইতিহাস গড়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি: কৃষকদের ঋণ মওকুফ

তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব নিয়েই প্রথম যে চমকটি দেখিয়েছে, তা হলো নির্বাচনি ইশতেহারের দ্রুত বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলো কৃষক। বিগত বছরগুলোতে ঋণের বোঝা এবং সারের সংকটে কৃষকরা যখন দিশাহারা ছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের কোটি কোটি কৃষক পরিবার নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে। কৃষিবিদদের মতে, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এ ছাড়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সবুজ বিপ্লবের ধারা অনুসরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল খননের কাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ও দারিদ্র্যবিমোচনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি ইতোমধ্যে চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী, আরও শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়নেও একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ: তারেক রহমানের ‘ম্যাজিক’

বর্তমানে বৈশ্বিক রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত ও উদ্বেগের বিষয় হলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার এই সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতিগুলো যখন কাঁপছে, তখন বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

তারেক রহমান সরকারের সাফল্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো

পর্যাপ্ত তেল মজুত: যুদ্ধের শুরুতেই দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে আপৎকালীন পরিকল্পনা তৈরি করেন। যার ফলে বর্তমানে দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত তেল মজুদ নিশ্চিত করেছে এই সরকার।

অপরিবর্তিত তেলের দাম: বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির যে শঙ্কা ছিল, তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে এখনো তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। তেলের দাম বাড়লে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়-এই সাধারণ সত্যটি মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের ওপর কোনো বাড়তি বোঝা চাপাতে চাননি।

নীতি কাঠামোর সংস্কার : বিগত ১৮ বছরের ভঙ্গুর নীতি কাঠামোকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি আমদানির ব্যবস্থা করায় সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া : ‘বিএনপি সরকার বলেই সম্ভব হয়েছে’ দেশের এই স্থিতিশীলতায় সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ সেলিম জামানের সাথে। তিনি আবেগের সাথে বলেন, ‘বিএনপির সরকার এবং তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বলেই আজ আমরা শান্তিতে আছি। এই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় অন্য কোনো সরকার ক্ষমতায় থাকলে এতদিন তেলের দাম কত টাকা যে বাড়াতো তা বলা কঠিন ছিল। তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যেত। তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন যে তিনি জনগণের কষ্টের কথা বোঝেন। শত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি তেলের দাম বাড়াননি, এটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া।

কেবল সেলিম জামান নন, দেশের রিকশা চালক থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী-সবার কণ্ঠেই একই প্রতিধ্বনি। মানুষের এই ভালোবাসাই তারেক রহমানের আগামীর পথ চলার শক্তি।

ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধির পথে : বিগত ১৮ বছর বাংলাদেশের মানুষ ভালো ছিল না। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন আর দুর্নীতির কারণে দেশের কোষাগার শূন্যপ্রায় ছিল। সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তোলা কোনো সাধারণ নেতার কাজ ছিল না। তারেক রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নন, বরং একজন দক্ষ ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে যেখানে বিশ্বের অনেক দেশেই জ্বালানি রেশনিং শুরু হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এক বড় বিজয়। তারেক রহমানের নির্দেশে জ্বালানি খাতকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করা হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদেরও আশ্বস্ত করছে।

আগামীর পথচলা : এক নতুন বাংলাদেশ

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এক নতুন সূর্যের দেখা পেয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো তিনি একে একে পূরণ করছেন। সবার আগে দেশ-এই স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, তাতে সাড়া দিয়েছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কিংবা অন্য কোনো বৈশ্বিক অস্থিরতা-কোনো কিছুই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারেক রহমানের মতো একজন দূরদর্শী এবং সাহসী নেতা এদেশের হাল ধরে আছেন। জনগণের দোয়া আর অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ এবং স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন শহীদ জিয়া দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছেন।

তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন যে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসলে এবং দেশপ্রেম থাকলে সব অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন যখন বিশ্বকে গ্রাস করতে চাইছে, তখন তারেক রহমানের বাংলাদেশ একটি শান্তির দ্বীপ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন বিশ্বাস করে-তারেক রহমান আছেন বলেই, আমরা নির্ভয়ে আগামীর স্বপ্ন দেখতে পারছি।

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: