র‍্যাব রক্ষীবাহিনীর চেয়েও খারাপ: কথোপকথনে হাসিনা


নিউজ ডেক্স প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১০, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ন
র‍্যাব রক্ষীবাহিনীর চেয়েও খারাপ: কথোপকথনে হাসিনা

তারিক আহমেদ সিদ্দিককে, নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ডিপ স্টেট তৈরি করেন, শেখ হাসিনা। প্রতিবেশী ভারত ও দেশের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে চলছিলো, সেই ডিপ স্টেটের কার্যক্রম। আর তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতেন জিয়াউল আহসান। গুমের মামলায় লিখিত জবানবন্দিতে এসব বলেছেন, সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। বলেন, তারিক সিদ্দিকের আশকারায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন জিয়াউল।

দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন তখন তুঙ্গে, টালমাটাল শেখ হাসিনার গদি। সেসময় নিজের ফেসবুক প্রোফাইল লাল করে আলোচনায় আসেন, সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তার এই অবস্থান আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে।

দেশের ১৪তম সেনাপ্রধান হিসেবে ২০১২ থেকে ৪ বছর দায়িত্বে থাকা ইকবাল করিম ভূঁইয়া ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে স্টার উইটনেস। এরই মধ্যে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে। যেখানে উঠে এসেছে গুম খুন থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার ডিপ স্টেট নির্মাণের কথা।

৮ পৃষ্ঠার লিখিত জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান জানান, নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদ সৃষ্টির মাধ্যমে ডিপ স্টেট নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তারিক আহমেদ সিদ্দিককে নিয়োগের পর থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অবতীর্ণ হন। কেনাকাটা থেকে পদোন্নতি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন মৌখিক আদেশে। রাখা হতো না কোনো লিখিত প্রমাণ।

জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, নিয়োগ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি এবং র‍্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীর ওপর কর্তৃত্ব কায়েম করেন তারেক আহমেদ সিদ্দিকী। তার নির্দেশেই এসব সংস্থা গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যায় জড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, তার ছত্রছায়ায় প্রতিদিন ঢাকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে যাতায়াত ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার।

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, র‍্যাবের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার তথ্যও। বলেন, ক্যারিয়ারমুখী সেনা কর্মকর্তাদের প্রেষণে র‍্যাবে পাঠানোর পর তারা ফিরতেন পেশাদার খুনির চরিত্র নিয়ে। এ নিয়ে কোনো একদিন কথোপকথনে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, র‍্যাব রক্ষীবাহিনীর থেকেও খারাপ।

সাবেক সেনাপ্রধানের লিখিত জবানবন্দিতে উঠে আসে, গেলো ১৫ বছর গুম খুনের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র জিয়াউল আহসানের উচ্ছৃঙ্খলার কথাও। বলেন, জিয়াউল কমান্ড ফলো করতেন তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর। মানতেন না সেনাপ্রধানের নির্দেশও। বেপরোয়া হয়ে ভিন্নমত দমনে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।

জিয়াউল আহসানের গুমের ব্যাপকতা এতটা ভয়াবহ যে, তার বিরুদ্ধে ১০৪ জনকে গুমের প্রমাণ মেলায় ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরুর অপেক্ষা। ১৪ জানুয়ারি এ বিষয়ে আদেশ দেবেন ট্রাইব্যুনাল।

#JN

ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন: