আমরা সকলেই সকলকে সাবধান করি, বলি চুপ থাকো, বলি দেশের যে পরিস্থিতি কখন কি হয় কখন পুলিশ র্যাব সাদা পোশাকে কখন কোথা থেকে তুলে নিবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। কোন রিক্স নিবার দরকার কি? ঘড়ে বউ বাচ্চা আছে তুমি না থাকলে এদের কি হবে এদের দেখবে কে? আরে ভাই তুমি না থাকলে এরা খেয়ে আছে বা না খেয়ে আছে দেখবে কে?
যারা বলেন কথা গুলি নিশ্চয় আপনাকে তারা ভালবেসে অথবা আন্তরিকতার সাথে হালকা ধমক দিয়ে অথবা ভয় পেয়ে কথা গুলি বলেন। আসলে দেশের এই পরিস্থিতি কে বা কারা তৈরি করে সে কথা তারা পষ্ট করে না বললেও তাদের কথাত ফাঁকে পষ্ট এবং পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে, সরকার এই কাজগুলি করে থাকে। সরকার কিভাবে এই কাজগুলি করে এবং করে থাকে তা কিন্তু অনেকের কাছেই পষ্ট নয়। এইযে বলে – পুলিশ র্যাব সাদা পোশাকের কোন বাহিনী কখন কোথায় থেকে তুলে নিয়ে যাবে কেউ জানে না। পুলিশ র্যাব সাদা পোশাকের বাহিনী কি তাদের ইচ্ছে মাফিক এই কাজ করে থাকে নাকি তাদের কেউ পরিচালনা করে? যদি কেউ পরিচালনা করে থাকে তবে কে সে? ব্যাক্তি নাকি আইন? ব্যক্তি যদি এই কাজ করে থাকে তবে ব্যক্তি সেই শক্তি কোথা থেকে পায় ব্যাক্তি? নিশ্চয় ব্যক্তি সেই শক্তি পায় সিস্টেম বা আইনের কাছে? এখন তো প্রশ্ন করাই যেতে পারে এমন আইন কেন তৈরি হয়?
কথা হচ্ছিল রিক্স নেয়া নিয়ে। আসলে কি কেউ রিক্স নেয়? রিক্স তো সব সময়ই বাংলাদেশের মানুষের ঘাড়ের উপর, রিক্স নেয়া বা না নেয়া বাংলাদেশের মানুষের উপর নির্ভর করে না। তারা রিক্স নিতে বাধ্য হয়। ধরুন পিঁয়াজ আদা চিনি তেল এর কথা এরা কাউকে তোয়াক্কা না করেই আপনাকে বাধ্য করে রিক্স নিতে। এমন কি বিচার নির্বাচন ব্যবস্থাও।
আপনি বোবা কালা নেংরা ধনী ফকির যেইই হউন রিক্স আপনার ঘাড়ের উপরে। আপনি আমি কখন সেই রিক্স এর বলি হব কেউ জানে না কেউ সেইফ না। নিরাপদ না। হঠাৎ করেই এই রিক্স আপনার ঘাড়ের উপরে আচমকা ঝম্প দিয়ে লাফিয়ে পড়তে পারে আপনি নীরবে চুপ করে সয়ে গেলেও এবং অনাহারে মরে গেলে অথবা টাকার পাহাড় জমিয়ে বিদেশে টাকা পাচার করলেও। আসল কথা হল বাংলাদেশে আপনি কোন অবস্থায় নিরাপদ এবং রিক্স ফ্রি না।
এবার সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি এই রিস্কে পরে থাকা নিয়ে কথা বলবেন, এর উৎস খুঁজবেন অথবা চুপচাপ থেকে রিক্স কখন আপনার ঘার মটকে দিবে সেই অপেক্ষায় থাকবেন এবং এই অনিরাপদ রিস্কি জীবন বয়ে বেড়াবেন? এই অনিরাপদ রিক্সি জীবন কেন সে জবাবদিহিতা আদায় করে নিবেন।
আদীল হোসেন
লেখক ও বিশ্লেষক
আপনার মতামত লিখুন :