

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজ কোটি মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ একটি নামের ওপর তারেক রহমান। তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি নন, বরং বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এবং সম্ভাব্য সরকার প্রধান হিসেবে আবির্ভুত হয়েছেন।
দীর্ঘ নির্বাসন, কণ্টকাকীর্ণ পথচলা এবং তৃণমূল থেকে দল গোছানোর অদম্য স্পৃহা তাকে পৌঁছে দিয়েছে আজকের এই অবস্থানে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে তার বিজয় কেবল একটি সংসদীয় জয় নয়, বরং এটি তার নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন।
তারেক রহমানের জন্ম ২০ নভেম্বর, ১৯৬৫ সালে। তার ধমনিতে প্রবাহিত হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রক্ত। এমন এক পরিবারে তার বেড়ে ওঠা, যেখানে সকালের নাস্তার টেবিলে আলোচিত হতো রাষ্ট্র পরিচালনা আর সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের গল্প।
শৈশবে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ এবং পরবর্তীতে বিএএফ শাহীন স্কুল ও কলেজে তার শিক্ষা জীবন অতিবাহিত হয়। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, তবে সাংগঠনিক চিন্তা ও গভীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ছিল তার সহজাত। পিতার শাহাদাতের পর এবং মাতার রাজনৈতিক সংগ্রামের দিনগুলোতে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন ক্ষমতার উত্থান-পতন এবং রাজনীতির নির্মম বাস্তবতা। তারেক রহমান সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বে আসেননি। আশির দশকে বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।
তিনি বিশ্বাস করতেন, ড্রয়িং রুমের রাজনীতি দিয়ে মানুষের মন জয় করা সম্ভব নয়। তাই তিনি চষে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। তার ‘তৃণমূল প্রতিনিধি সভা’ কর্মসূচি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক। গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা স্বচক্ষে দেখা এবং তাদের হাতে ক্ষমতা পৌঁছে দেওয়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা-ই তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়।
২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন। তার নেতৃত্বে দল সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয় এবং ২০০১ সালেরনির্বাচনে বিএনপি জোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ে তিনি নেপথ্যের কারিগর হিসেবে কাজ করেন।
২০০৭ সালের ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমানকে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়। শারীরিক নির্যাতন এবং একের পর এক মিথ্যা মামলায় তাকে জর্জরিত করা হয়। দীর্ঘ কারাবাস ও গুরুতর অসুস্থতার পর ২০০৮ সালে তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সুদূর প্রবাসে থেকেও তিনি এক মুহূর্তের জন্য দেশের মাটি ও মানুষের কথা ভোলেননি। ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে তিনি দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং দীর্ঘ দেড় দশক ধরে রাজপথের আন্দোলনকে বেগবান রেখেছেন।
আজ যখন তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে, তখন জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। একজন রাষ্ট্রপতির সন্তান এবং প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হিসেবে তার ওপর যে গুরুদায়িত্ব অর্পিত হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সচেতন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সম্ভাব্য দায়িত্ব ও কর্তব্যের মূল ভিত্তি হবে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’ এবং ‘সুশাসন’।
গত দেড় দশকে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করা হবে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনাই হবে তার অগ্রাধিকার।
তিনি বরাবরই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে বিশ্বাসী। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে তৃণমূলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং ঢাকাকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসাই তার লক্ষ্য।
ভয়ভীতির সংস্কৃতি দূর করে নাগরিকের বাকস্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে তার সরকারের মূল অঙ্গীকার।
তারেক রহমান ইতোমধ্যেই তার ‘৩১ দফা’ রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তার পরিকল্পনাগুলো অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী:
রাষ্ট্র পরিচালনায় গুণী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করতে উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
একনায়কতন্ত্র রোধে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন এবং একই ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান চালুর পরিকল্পনা তার আধুনিক রাজনৈতিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।
বেকারত্ব দূর করতে তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি ‘ভিশন ২০৩০’-এর আলোকে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা বলেছেন।
সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি।
তারেক রহমান আজ কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে তিনি আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, সেখানে তার প্রধান শক্তি হলো সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। উত্তরাধিকারের গর্বকে ছাপিয়ে নিজের কর্ম দিয়ে তিনি আজ ‘তারেক রহমান’ হয়ে উঠেছেন।
বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, শহীদ জিয়ার আদর্শ আর বেগম জিয়ার আপসহীন আপসহীনতাকে ধারণ করে তারেক রহমান একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ বিনির্মাণে সফল হবেন। আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার হাত ধরেই রচিত হবে এক নতুন বাংলাদেশের ইতিহাস, যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য, থাকবে কেবল উন্নয়ন আর ইনসাফ।
জেএইচআর








































আপনার মতামত লিখুন :